আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি: স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস), হিন্দু মহাসভা-সহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের পরিবর্তে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সক্রিয় ছিল। স্বাধীনতার পরেও তারা জাতীয় কংগ্রেসকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে এসেছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী-র হত্যাকাণ্ড ছিল সেই চক্রান্তেরই অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত নাথুরাম গডসে-র হাত দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর মতে, এরপরও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় কংগ্রেসকে দুর্বল করতে দেশি-বিদেশি শক্তি সক্রিয় থেকেছে।
তিনি আরও বলেন, গান্ধী-নেহেরু পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্রের নিশানায়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধী-র হত্যাকাণ্ডকেও তিনি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেহেরু-গান্ধী পরিবারকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের, সংসদ সদস্য পদ খারিজের ঘটনা এবং বিভিন্নভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সাংসদদের মাধ্যমে সংসদে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ আজীবনের জন্য বাতিল করার দাবি তোলা হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি ‘করনি সেনা’র মুখপাত্র পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে রাহুল গান্ধীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে কংগ্রেসের একাধিক সাংসদকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই ঘটনাকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বলে স্পষ্ট জানান।
প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্রের বক্তব্য, দেশে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক। তিনি সকল গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

