১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন বন্ধের সম্ভাবনা

নয়াদিল্লি, ২০ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি (এনএইচএআই)।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জাতীয় সড়কে সম্পূর্ণ ডিজিটাল টোলিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তখন সমস্ত টোল পরিশোধ কেবলমাত্র ডিজিটাল মাধ্যমে, অর্থাৎ ইপিআই-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থায় যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা আরও সুসংহত করা এবং টোল প্লাজার কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রূপান্তরের ফলে জাতীয় সড়ক ব্যবহারকারীদের ‘ইজ অফ কমিউটিং’ বা যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে। টোল প্লাজায় যানজট কমবে, লেনের গতি বাড়বে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত হবে।

বর্তমানে দেশে ফাস্ট্যাগ ব্যবহারের হার ৯৮ শতাংশের বেশি। আরএফআইডি-সক্ষম ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ টোল লেনদেন ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, ফলে টোল প্লাজায় নিরবচ্ছিন্ন ও স্পর্শবিহীন যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে।

এনএইচএআই জানিয়েছে, জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে ইপিআই- পেমেন্ট ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজ ও তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা পান।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ও সক্রিয় ফাস্ট্যাগ ছাড়া কোনও গাড়ি টোল প্লাজায় প্রবেশ করলে এবং নগদে টোল পরিশোধ করলে নির্ধারিত ইউজার ফি-র দ্বিগুণ চার্জ করা হয়। অন্যদিকে, ইপিআই-র মাধ্যমে টোল দিলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির শ্রেণি অনুযায়ী ১.২৫ গুণ ফি নেওয়া হয়।

সরকারের মতে, ১,১৫০-র বেশি টোল প্লাজায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হলে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং সামগ্রিকভাবে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।

এদিকে ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস চালুর ছয় মাসের মধ্যেই ৫০ লক্ষের বেশি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন এবং ২৬.৫৫ কোটির বেশি লেনদেন নথিভুক্ত হয়েছে। ৩,০০০ টাকা এককালীন ফি দিয়ে এক বছরের জন্য বা ২০০ বার টোল পারাপারের সুবিধা মিলছে এই বার্ষিক পাসে, ফলে বারবার ফাস্ট্যাগ রিচার্জ করার প্রয়োজন পড়ছে না।

Leave a Reply