ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে প্রয়োগমূলক এআই সাফল্যের প্রদর্শন

নয়াদিল্লি, ২০ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ গবেষণাগার ছাড়িয়ে বাস্তবক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দিয়ে এক পরিণত প্রয়োগমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিবেশের ছবি উঠে এসেছে। খালসা ভক্স-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োগমূলক এআই, শিক্ষাক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ এবং শিল্প-প্রস্তুত রোবোটিক্সের উপর গুরুত্ব আরোপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রতিরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে।

ভবিষ্যতমুখী ধারণার পাশাপাশি, বহু প্রদর্শক বাস্তব সমস্যার সমাধানে উপযোগী দেশীয় প্রযুক্তি তুলে ধরেছেন। সামিটে প্রদর্শিত প্রযুক্তিগুলির মধ্যে ছিল একটি হাইব্রিড ভার্টিক্যাল টেক-অফ-অ্যান্ড-ল্যান্ডিং (ভিটিওএল) মানববিহীন বিমান, যা মাল্টি-রোটর ফ্লাইটের নমনীয়তা এবং ফিক্সড-উইং বিমানের দীর্ঘস্থায়িত্ব একত্র করেছে।

এই সিস্টেমটি দীর্ঘ সময় আকাশপথে নজরদারি এবং জরুরি সহায়তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে ন্যাভিগেশন এবং রিয়েল-টাইম তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এআই সংযুক্ত করা হয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে ড্রোন-ভিত্তিক আরেকটি সমাধানে এআই-চালিত ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ফসলের রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে লক্ষ্যভিত্তিক স্প্রে করা সম্ভব হচ্ছে এবং রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমানো যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নজরদারি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন ধরনের ড্রোন প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৌশলী ও কার্যনির্বাহী সংস্থাগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রতিফলন।

প্রকল্প নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, এখন জোর দেওয়া হচ্ছে এমন নকশার উপর যা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও মিশন প্রোফাইল অনুযায়ী সহজে পরিবর্তনযোগ্য।

মিশন-প্রস্তুত মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বাড়তে থাকা ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একাধিক সংস্থা এআই-কেন্দ্রিক শিক্ষামডেল উপস্থাপন করেছে, যেখানে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে গ্রাসরুট স্তরের স্টেম উদ্যোগের কথা। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি মডুলার রোবোটিক্স কিটের মাধ্যমে ব্লক কোডিং, পাইথন বা সিপ্লাসপ্লাস ব্যবহার করে যন্ত্র সংযোজন ও প্রোগ্রামিং শেখানো হচ্ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীরা যান্ত্রিক ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।

এছাড়াও নজর কেড়েছে পরিদর্শনমূলক রোবোটিক্স। বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তৈরি একটি ‘ক্লাইম্বিং রোবট’ এআই ভিশন এবং চৌম্বকীয় সংযুক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধাতব কাঠামো বেয়ে উঠে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

Leave a Reply