আলাপ্পুঝা, ২০ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : অপারেশনের পাঁচ বছর পর এক মহিলার পেটের ভেতর থেকে অস্ত্রোপচারের কাঁচি উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কেরলে। ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভীনা জর্জ জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে এসেছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। ঘটনাটি আলাপ্পুঝা জেলার পুন্নাপ্রা এলাকার বাসিন্দা ঊষা জোসেফকে ঘিরে। চলতি সপ্তাহে এক্স-রে পরীক্ষায় তাঁর পেটের ভিতরে একটি কাঁচি ধরা পড়ে।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ৫ মে তিনি আলাপ্পুঝা বন্দনাম মেডিকেল কলেজ-এ জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করান। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন পেটব্যথা ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ওষুধ খেয়ে কোনওরকমে ব্যথা সামাল দিচ্ছিলেন বলেও জানা যায়।
মন্ত্রী ভীনা জর্জ বলেন, কীভাবে এত বছর ধরে রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র রয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রটোকলও পর্যালোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত বলে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই চিকিৎসক ডা. ললিতাম্বিকা দাবি করেছেন, তিনি ঊষার ওই অস্ত্রোপচার করেননি। তাঁর দাবি, রোগীর অতীতে আরও অস্ত্রোপচার হয়েছিল, প্রায় ২০ বছর আগেও একটি অপারেশন হয়। সেই সময় যন্ত্রটি থেকে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ নেন না এবং এ ধরনের ঘটনা ব্যক্তিগত গাফিলতির চেয়ে পদ্ধতিগত ত্রুটির ফল হতে পারে।
তবে ঊষা জোসেফের দাবি, ২০২১ সালে ভানদানম মেডিক্যাল কলেজে হওয়া অস্ত্রোপচার ছাড়া তাঁর অন্য কোনও অপারেশন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন তীব্র ব্যথার কথা জানালেও প্রথমে চিকিৎসকরা তাঁর উপসর্গকে কিডনিতে পাথরের সমস্যা বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সম্প্রতি এক্স-রে করানোর পরই কাঁচির অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
ঊষা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি গোপনে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এবং তাঁকে ঘটনা প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ঊষার পরিবার ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তাঁর ছেলে জানান, বছরের পর বছর যন্ত্রণায় ভুগেছেন তাঁর মা। প্রস্রাবে অসুবিধা, নিয়মিত কাজ করতে না পারা এবং বিপুল চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত শুরু হলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং দায় নির্ধারণই হবে প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

