আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারি: জনজাতি অধ্যুষিত নয়—এমন একাধিক এলাকায় বসবাসকারী জনজাতি মানুষেরা এখনও মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। পানীয় জল, চলাচলের উপযোগী রাস্তা, নিকাশির ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ দিনের অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে এডিসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, বামফ্রন্ট সরকারের টানা ৩৫ বছরের শাসনকাল এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে বর্তমান এডিসি প্রশাসনের আমলেও তাঁদের জীবনযাত্রার মৌলিক সমস্যাগুলির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শুক্রবার ৪৪ রাইমা ভ্যালির উল্টাছড়া ও কালাঝরির ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসন কেন্দ্র-সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা আগরতলায় এসে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট ও ভগ্নপ্রায় রাস্তাঘাটের কারণে নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে কাদা ও জলমগ্ন পথ পেরিয়ে স্কুল, বাজার কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পানীয় জলের একমাত্র ভরসা দূরবর্তী টিউবওয়েল বা ঝর্ণার জল, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগে সমস্যাগুলিকে রাজনৈতিক ইস্যু করে তোলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব সমাধান মিলছে না। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুললেও উন্নয়নের চাকা এগোয়নি।মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের বঞ্চনাকে পুঁজি করে রাজনীতি করা উচিত নয়। উন্নয়নের প্রশ্নে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তাঁদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকার।”
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনজাতি মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতিকে জিইয়ে রাখছে। তাঁর দাবি, ব্রু পুনর্বাসন কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে শুধুমাত্র ‘মায়া-কান্না’ দেখানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে পানীয় জল ও রাস্তাঘাট সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দীর্ঘ বছরের বঞ্চনার পর আদৌ কত দ্রুত স্বস্তি মিলবে বাসিন্দাদের? আপাতত প্রতিশ্রুতির ভরসাতেই দিন গুনছেন রাইমা ভ্যালি ও কালাঝরির মানুষ।

