ওয়াশিংটন, ২০ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : সাম্প্রতিক ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি “ভাল চুক্তি আদায় করেছেন” বলে মন্তব্য করলেন জনপ্রিয় আফ্রিকান-আমেরিকান গায়িকা মেরি মিলবেন। তাঁর দাবি, ধৈর্য ও কূটনৈতিক সংযম ভারতের পক্ষে পাল্লা ভারী করেছে।
ওয়াশিংটনে আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিলবেন বলেন, অবশেষে একটি চুক্তি হয়েছে, এটা খুবই ভালো বিষয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সমাধানে পৌঁছনোর জন্য সাধুবাদ জানাই। তিনি সম্প্রতি ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারে পারফর্ম করার পর এই সাক্ষাৎকার দেন।
তবে কে বেশি লাভবান হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট। আমি সবসময় প্রধানমন্ত্রীকেই কৃতিত্ব দেব, কারণ এই ক্ষেত্রে তিনিই জিতেছেন। তিনি অত্যন্ত সংযত ও ধৈর্যশীল ছিলেন। ভারতের স্বার্থ নিশ্চিত করতে তিনি কখনও বিচলিত হননি, বলেন মিলবেন।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভারতকে বিক্রি করে দেওয়া’ সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে মিলবেন তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। ওটা সত্য নয়। গান্ধীর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া যায় না, বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গান্ধী সবসময় প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করেন।
মিলবেনের মতে, একাধিক ভূরাজনৈতিক ঘটনার ফলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইইউ–ভারত বাণিজ্য চুক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
আমি মনে করি ইইউ–ভারত চুক্তিই ছিল এক ধরনের সতর্কবার্তা, যা প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্প প্রশাসনকে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেটি হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন পথে এগোনো উচিত, বলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মিলবেন বলেন, শুধু বাণিজ্য চুক্তি হলেই সম্পর্কের সব সমস্যা মিটে যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বৃহত্তর সম্পর্ক পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া, মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানানো সম্পর্ক মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এআই সামিটের উল্লেখ করে মিলবেন বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ভারতে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বে ব্যবসা করতে চাইলে ভারতকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে।” তাঁর মতে, ব্যবসার ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
ওয়াশিংটনে ঘোষিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগকেও স্বাগত জানান মিলবেন। তবে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মানে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা, একতরফা নির্দেশ দেওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি শান্তি চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তা সফল হবে না।
সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী আগস্টে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন সঙ্গীত প্রস্তুত করছেন। ‘বন্দে মাতরম্’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে জানে, হয়তো আগস্টের জন্য নতুন গান আসছে। ভারত ও প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিলবেন বলেন, ভারত এবং সারা বিশ্বের ভারতীয় সম্প্রদায়কে আমি আমার পরিবার মনে করি। ১.৫ বিলিয়ন মানুষের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাতীয় অনুষ্ঠান ও প্রবাসী ভারতীয়দের সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে ভারত ও ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন মেরি মিলবেন।

