গুয়াহাটি, ১৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিত্রী শনিবার অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরান বাইপাসে জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত জরুরি অবতরণ সুবিধা (ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি বা ইএলএফ)-এর উদ্বোধন করলেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে এই প্রথম এ ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠল বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) এক বর্ণাঢ্য এয়ার শো প্রত্যক্ষ করেন। আকাশে উড়ান প্রদর্শন করে রাফাল, সুখোই ও মিগ যুদ্ধবিমান। মহাসড়কের ওই বিশেষভাবে প্রস্তুত স্ট্রিপে সফলভাবে অবতরণ ও উড্ডয়ন করে যুদ্ধবিমানগুলি। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে প্রায় এক লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক।
উচ্চ অসমে অবস্থিত মোরান ইএলএফ-কে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সামরিক পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা আইএএফ-কে আরও বেশি কৌশলগত নমনীয়তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ইএলএফ এমনভাবে নির্মিত হয়েছে যাতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দর বা চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটি কোনও কারণে অচল হয়ে পড়লে এটি বিকল্প অবতরণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। সংবেদনশীল সীমান্তের কাছাকাছি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিশেষ সহায়ক হবে।
৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী কংক্রিটের এই অংশটিকে জরুরি রানওয়ে হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান অবতরণ করতে পারবে। প্রচলিত স্থায়ী বিমানঘাঁটির তুলনায় মহাসড়কভিত্তিক অবতরণ ক্ষেত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সুরক্ষা, গতিশীলতা ও কৌশলগত চমকের সুবিধা দেয়।
মোরান ইএলএফ-এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল মাঝখানে ডিভাইডার না থাকা, যাতে অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় বিমান চলাচলে কোনও বাধা না পড়ে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দু’পাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং অস্থায়ী রাস্তার পাশের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
ভারত-চীন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় মোরানের এই পরিকাঠামোর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এতদিন এ ধরনের সুবিধা মূলত দেশের পশ্চিম, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। মোরান প্রকল্পের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ ঘটল।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আইএএফ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে নির্মিত এই দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সুবিধায় সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং সর্বোচ্চ ৭৪ টন টেক-অফ ওজনের পরিবহণ বিমান অবতরণ করতে পারবে।

