মুম্বই, ১৪ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুকে ঘিরে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানালেন এনসিপি-এসপি বিধায়ক রোহিত পওয়ার। শনিবার তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়ে বারামতির কাছে ২৮ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া লিয়ারজেট-৪৫ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানান।
চিঠিতে রোহিত পওয়ার একাধিক “উদ্বেগজনক অসঙ্গতি” ও নিরাপত্তা ত্রুটির কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, বারামতির কাছে এই দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাও হতে পারে।
তিনি জানান, ভিএসআর ভেঞ্চার্স পরিচালিত বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট-৪৫ (ভিটি-এসএসকে) বিমানের শেষ মুহূর্তে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, নির্ধারিত দুই পাইলটকে শেষ মুহূর্তে বদলি করা হয়, কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল ‘ট্রাফিক বিলম্ব’। এতে বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং ও ডিউটি নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পাইলটের আচরণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইজিপিডব্লিউএস (উন্নত স্থল প্রক্সিমিটি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা) সতর্কবার্তার অনুপস্থিতির বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি। একই অপারেটর ২০২৩ সালে মুম্বই বিমানবন্দরে একটি গুরুতর দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও দাবি করেন রোহিত।
রোহিত পওয়ার আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিমান চলাচল সুরক্ষা সংস্থা (ইএএসএ) ২০২৪ সালে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের অনুমোদন বাতিল করেছিল। তাঁর দাবি, এই তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা গুরুত্ব পায়নি।
কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও পাইলট রানওয়ে ১১-তেই নামার ওপর জোর দেন, যা একটি টেবলটপ রানওয়ে। রানওয়ে ২৯ তুলনামূলক নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ।
রোহিত পওয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে ভিএসআর-এর সব বিমান ও অ্যারো এয়ারক্রাফট সেলসকে গ্রাউন্ড করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি ফ্রান্সের ব্যুরো অব এনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যানালিসিস ফর সিভিল এভিয়েশন সেফটি বা ব্রিটেনের এয়ার অ্যাক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তদন্তে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। প্রয়াত অজিত পওয়ারের পরিবারের সদস্য এবং রাজ্যের সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবিও তোলেন তিনি।
রোহিত পওয়ার বলেন, মহারাষ্ট্র এক জননেতাকে হারিয়েছে, যিনি জনসেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। যদি অপারেটরদের গুরুতর গাফিলতি পূর্ণ দায়বদ্ধতার সঙ্গে খতিয়ে না দেখা হয়, তবে অন্যান্য নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের দাবির কথা তুলে ধরেন। এক্সে পোস্ট করে জানান, এই দুর্ঘটনা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছে এবং সেগুলি সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী এবং ডিজিসিএ-র সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তাই বিস্তারিত উপস্থাপনা-সহ সমস্ত তথ্য ইমেল মারফত পাঠানো হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, তদন্ত কিছুটা গতি পেলেও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংসদ অধিবেশনের ব্যস্ততার কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সময় দিতে না পারলেও ডিজিসিএ কেন সময় দেয়নি, তা স্পষ্ট নয়। ক্ষমতায় না থাকলেও তাঁরা নিজেদের মতো করে বিষয়টি অনুসরণ করছেন এবং রাজ্য সরকারও একইভাবে পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

