২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন, আজ ভোট চলছে বাংলাদেশে

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ২০২৪ সালের ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসানের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের গণভোটও।

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে দেশটি একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়কালে দেশজুড়ে প্রতিবাদ, কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্লেষকদের একাংশের পূর্বাভাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে কট্টর ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময় বিএনপির জোটসঙ্গী থাকা এই দলটি এবার উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেই। যদিও সামগ্রিকভাবে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস আওয়ামী লীগকে ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে নির্বাচনকে “প্রহসন” আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, বিএনপি, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর ভোটকেন্দ্রে যেতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।

এই নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের অবসানের পর ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী বহু নাগরিক প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন। ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটাররা মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশ। দেশে নিবন্ধিত মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ হবে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হলেই শুরু হবে গণনা।

প্রথম সারির দৈনিক দ্য ঢাকা ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৮৮ হাজার নারী ভোটার। উল্লেখযোগ্যভাবে প্রায় ২৭ লক্ষ নারী প্রথমবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, যেখানে নতুন পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার। খুলনা বিভাগের একাধিক আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি, ফলে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারে নারী ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি এখনও কম। মোট প্রার্থীর মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ নারী। মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন, যার মধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ২০ জন নির্দল প্রার্থী।

গণভোটে উত্থাপিত জুলাই ন্যাশনাল চার্টারে ব্যাপক সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ নির্বাচন তদারকিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং বর্তমান ৩৫০ নির্বাচিত সদস্যের পাশাপাশি ১০০ মনোনীত সদস্য নিয়ে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।

নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৯ লক্ষ ৫৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ লক্ষের বেশি সেনা সদস্যও দায়িত্বে রয়েছেন।

Leave a Reply