নয়াদিল্লি, ৯ ফেব্রুয়ারি : উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিন সংক্রান্ত আবেদন শুনতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত সেঙ্গারের সেই আবেদন দিল্লি হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়ে ‘আউট-অব-টার্ন’ ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ দিল্লি হাই কোর্টকে অনুরোধ করেছে, তিন মাসের মধ্যে, সম্ভব হলে তার আগেই, মামলার নিষ্পত্তি করতে।
উন্নাও ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১০ বছরের সাজা পাওয়ার বিরুদ্ধে সেঙ্গার আপিল করেছিলেন। সেই মামলায় সাজা স্থগিত করতে হাই কোর্ট ১৯ জানুয়ারি আবেদন খারিজ করায়, সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেই তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান।
সেঙ্গারের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ১০ বছরের সাজার মধ্যে ৭ বছর ৭ মাস কারাবাস ভোগ করেছেন। তবে সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মূল আপিলটি ১১ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। তিনি প্রস্তাব দেন, বিষয়টি ‘আউট-অব-টার্ন’ ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ প্রচা জানান, তাঁরা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার বদলে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করার জন্য পৃথক আপিল দায়ের করেছেন, যাতে সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। লাইভল-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সেঙ্গারের আইনজীবী যুক্তি দেন, আপিল বিচারাধীন থাকাকালীন সাজা স্থগিত করা সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তোলেন, আপনি যখন অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন, তখন কি সেটি সাজা স্থগিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য নয়?
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই যে সময় কারাবাস করেছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে হাই কোর্টকে অনুরোধ করা হচ্ছে দ্রুত, তবে তিন মাসের মধ্যে শুনানি শেষ করতে। পাশাপাশি, অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দায়ের করা কোনও আপিল থাকলে, সেগুলিও একসঙ্গে শুনানির জন্য হাই কোর্টে আবেদন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি প্রথমে গ্রহণ করা উচিত এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সব আপিল একসঙ্গে শুনে নিষ্পত্তি করা ন্যায়বিচারের স্বার্থে উপযুক্ত হবে।

