শ্রীনগর, ৭ ফেব্রুয়ারি : পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহত হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার কাশ্মীর উপত্যকায় শিয়া মুসলমানদের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শতাধিক শিয়া মুসলমান শ্রীনগর–বারামুল্লা জাতীয় সড়কে মিছিল বের করে পাকিস্তানবিরোধী স্লোগান দেন। বিক্ষোভটি মূলত বারামুল্লা জেলার হাঞ্জিওয়েরা এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের বিভিন্ন শক্তি শিয়া সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত এবং সেখানকার পরপর সরকারগুলো এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের মতে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র থাকার কারণেই শিয়া মুসলমানরা বারবার নিশানা হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুম্মার নামাজ চলাকালীন একটি ইমামবারগায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ইমামবারগা খাদিজাতুল কুবরা-তে ঘটে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাল্লাল চৌধুরী ইসলামাবাদে সংবাদমাধ্যমকে জানান, হামলাকারী আফগান নাগরিক না হলেও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে যে সে একাধিকবার আফগানিস্তান সফর করেছিল।
কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীরা বলেন, পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন সেদেশে সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ নিজেও একজন শিয়া মুসলমান ছিলেন এবং স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কাশ্মীরে মোট মুসলমান জনসংখ্যার প্রায় ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। এই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ বুদগাম, বারামুল্লা ও শ্রীনগর জেলায় বসবাস করেন। শিয়া ধর্মীয় নেতারা বরাবরই জম্মু ও কাশ্মীরসহ সর্বত্র শান্তি, সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দিয়ে আসছেন বলে বিক্ষোভকারীরা জানান।

