আগরতলা, ৩ জানুয়ারি: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান রাজ্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে বলে দাবি করলেন অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। মঙ্গলবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডি.এ (মহঘার ভাতা)-র যে ফারাক রয়েছে, তা কমানোর বিষয়টি রাজ্য সরকার বারবার ষোড়শ অর্থ কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একবার নয়, একাধিকবার এই বিষয়ে অর্থ কমিশনের সামনে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকার যদি অষ্টম বেতন কমিশন (৮ম পে কমিশন) কার্যকর করে, সেক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্য কীভাবে তা বাস্তবায়ন করছে, সেই বিষয়টিও রাজ্য সরকার খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
ফিক্সড পে প্রথা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই ব্যবস্থা বিজেপি সরকারের চালু করা নয়। ২০০১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই ফিক্সড পে প্রথার সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রথায় নিযুক্ত কর্মচারীদের পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নিয়মিতকরণের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইল অর্থ দপ্তরে পাঠানো হয়। আগের মতো আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয় না বলেও তিনি জানান।
রাজ্যের আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে সরকার গঠনের সময় রাজ্যের বাজেটের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রনজিৎ সিংহ রায় বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন একটি ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মহিলাদের স্বশক্তিকরণ, যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলার দিকেও এই বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা নিয়ে তৈরি এই বাজেটের সুফল আগামী দিনে দেশবাসী পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

