নয়াদিল্লি, ৩ ফেব্রুয়ারী : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি হঠাৎ চূড়ান্ত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ কাজ করেছে বলে দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে চলা মামলার জেরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আপস করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমেরিকায় আদানিজির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এই মামলা আসলে মোদিজির বিরুদ্ধেও। এপস্টেইন ফাইলসেও আরও অনেক তথ্য রয়েছে, যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এই দু’টি বিষয়েই প্রবল চাপ রয়েছে। সেই কারণেই হঠাৎ করে বাণিজ্যচুক্তিতে সই করা হয়েছে।” তাঁর সংযোজন, “মোদিজি ফ্যাসাদে পড়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে চুক্তি আটকে ছিল। হঠাৎ রাতারাতি সই—এটা স্পষ্ট যে ভীষণ চাপ ছিল।”
এপস্টেইন ইস্যুতে কংগ্রেসের অভিযোগের জবাবে আগেই বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এ ধরনের সব দাবি “ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর”। সরকারিভাবে এই অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই বলেই দাবি করা হয়েছে। তবে কংগ্রেস এ নিয়ে তাদের আক্রমণ শানানো থামায়নি।
সোমবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনাধীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারতের উচ্চ শুল্কের জবাবে আমেরিকা যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।
এর আগে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদিও ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার)-এ পোস্ট করে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের জন্য।
তবে চুক্তির শর্তাবলি, কোন স্তরে বা কারা স্বাক্ষর করেছেন, এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত পূর্ববর্তী মতভেদ কীভাবে মেটানো হয়েছে—এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব থেকেই জল্পনা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষিতেই রাহুল গান্ধীর দাবি, আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত। যদিও কেন্দ্র বা বিজেপির তরফে এ বিষয়ে এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

