হুবলি, ৪ জানুয়ারি : দেশের দুই প্রান্তে নারী নিরাপত্তার চরম অবনতি। কর্ণাটকের হুবলি এবং উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে দুই নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশবাসী। হুবলিতে তিন কিশোরের লালসার শিকার হয়েছে ১৩ বছরের এক বালিকা, অন্যদিকে বুলন্দশহরে ৬ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
কর্ণাটকের হুবলিতে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী তিন কিশোরকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই বালিকার বাবা-মা ছিলেন না। সেই সুযোগে প্রতিবেশী ওই তিন কিশোর তাকে ফুঁসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়।
কর্ণাটকের হুবলির ঘটনায় তদন্তের গভীরে গিয়ে পুলিশ চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উদ্ধার করেছে। ধৃত তিন অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং একজন মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া কিশোর। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ওই নাবালিকাকে চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিল। তারা দাবি করেছিল যে, সম্পূর্ণ লালসার ভিডিও তারা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রেখেছে এবং মুখ খুললে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনগুলো বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের ঘটনাটি ছিল আরও বেশি অমানবিক ও নৃশংস। গত ২ জানুয়ারি রাতে মাত্র ৬ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ করার পর তার ওপর চলে চরম শারীরিক অত্যাচার। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং ঘটনার যাবতীয় প্রমাণ লোপাট করার অশুভ উদ্দেশ্যে ওই নিষ্পাপ শিশুটিকে একটি বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয় পাষণ্ডরা। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। তাকে দ্রুত সিকান্দ্রাবাদের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেই এই নিষ্ঠুর পথ বেছে নিয়েছে।
হুবলির পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “আমরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করেছি। নির্যাতিতার পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বুলন্দশহরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে।
উভয় ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

