নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শুক্রবার উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
চলতি মাসের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সুইডেন সফরে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সফরকালে তিনি সুইডিশ সংসদের সংবিধান বিষয়ক কমিটির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে তিনি সুইডেনে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া-র সদর দফতরে একটি ফলক উন্মোচন করেন এবং সংস্থার মহাসচিব ড. কেভিন কাসাস-জামোরার সঙ্গে বৈঠক করেন।
স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া-র কাউন্সিল অব মেম্বার স্টেটসের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিয়া-র চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করেন। এই দায়িত্বে থেকে তিনি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য সংস্থার সব কাউন্সিল বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা ৩৫টি দেশ, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যুক্ত রয়েছে। সংস্থাটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চেয়ারম্যানশিপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার স্বীকৃতি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলির অন্যতম ভারত। সংস্থার শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক আলোচনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ভারত নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে।
ইসি জানিয়েছে, চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের অনন্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংস্থার বৈশ্বিক কর্মসূচিকে দিশা দেখাবেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থার মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, পেশাদার নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং তথ্যভিত্তিক নির্বাচনী সংস্কারকে উৎসাহিত করা হবে।”
প্রায় এক বিলিয়ন ভোটার নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত তার স্বচ্ছ, সুসংগঠিত ও নথিভুক্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা আগামী এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

