এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি নিয়ে কাউন্সিলের বৈঠক সরাসরি হওয়াই বাধ্যতামূলক: দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর: এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি কমানো বা তুলে নেওয়া নিয়ে যদি জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হয়, তবে তা শুধুমাত্র সরাসরি (শারীরিকভাবে) অনুষ্ঠিত হতে পারে, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নয়—শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে এই বক্তব্য জানাল কেন্দ্র সরকার।

বিচারপতি বিকাশ মহাজন ও বিচারপতি বিনোদ কুমারের অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এন. ভেঙ্কটরামন আদালতকে জানান, এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত কাউন্টার-অ্যাফিডেভিট দাখিল করার জন্য কেন্দ্রের সময় প্রয়োজন। আদালত কেন্দ্রকে ১০ দিনের সময় দেয় এবং পরে আবেদনকারীকে জবাব (রিজয়েন্ডার) দাখিলের স্বাধীনতা দেয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার পক্ষে উপস্থিত জানান যে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক যদি হয়, তা কেবলমাত্র সরাসরি পদ্ধতিতেই সম্ভব, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নয়। পাশাপাশি একটি বিস্তারিত কাউন্টার অ্যাফিডেভিট দাখিল করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, এই জনস্বার্থ মামলায় এয়ার পিউরিফায়ারকে ‘মেডিক্যাল ডিভাইস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। শুনানিকালে ভেঙ্কটরামন মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, আবেদনটি “লোডেড” এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন নির্দেশ চাওয়া হলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে পক্ষভুক্ত করা হয়নি।

তিনি বলেন, গতকাল আমাদের একটি জরুরি বৈঠক হয়েছিল। এই পিআইএল নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। আমরা জানি না এর পেছনে কারা রয়েছে। এটা আসলে পিআইএল নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রক পর্যন্ত পক্ষ নয়।”

এএসজি আরও জানান, জিএসটি কাউন্সিল একটি সাংবিধানিক সংস্থা, যেখানে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা থাকেন। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সম্মত হতে হয়। অর্থমন্ত্রীদের উপস্থিতি থাকে। যদি কোনও বিষয়ে ভোটাভুটি হয়, তা শুধুমাত্র সরাসরি বৈঠকেই সম্ভব, তিনি যুক্তি দেন।

কেন্দ্রের আইনজীবী আরও সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জিএসটি কমানোর নির্দেশ দিলে তা “প্যান্ডোরার বাক্স” খুলে দিতে পারে।
একটি সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা এখনই কিছু বলছি না—জিএসটি কমতেও পারে, নাও পারে। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়, তিনি বলেন। পাশাপাশি তিনি প্রস্তাব দেন, এই পিআইএল-কে জিএসটি কাউন্সিলের কাছে একটি আবেদন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, আবেদনকারী আইনজীবী কপিল মাদান কেন্দ্রের আপত্তির বিরোধিতা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের উপর ভরসা করেন। তাঁর দাবি, এয়ার পিউরিফায়ার ভুল জিএসটি স্ল্যাবে কর আরোপের আওতায় রয়েছে।

তিনি বলেন, নোটিফিকেশনটি সাধারণভাবে পড়লেই বোঝা যায় যে এগুলি অন্য একটি সিডিউলের আওতায় পড়ে এবং ভুলভাবে কর আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, বিলম্ব হলে জাতীয় রাজধানীর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, কেন্দ্রের কাউন্টার-অ্যাফিডেভিট না দেখে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
বেঞ্চ মন্তব্য করে, আজ কাউন্টার অ্যাফিডেভিট ছাড়া আদালতের পক্ষে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।