নয়া দিল্লি, ২ ডিসেম্বর: নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নাম বদলে ‘সেবা তীর্থ’ রাখা হয়েছে, যা সরকারের ‘সেবা’ (সেবা) দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি প্রতিফলিত করে। পূর্বে ‘লোক কল্যাণ মার্গ’ এবং ‘কর্তব্য পথ’ এর মতো নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নাম পরিবর্তনটি ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত জাতির গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ‘প্রধান সেবক’ ভূমিকার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ এই নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সেবা হবে না, বাকি সব কিছু হবে’’। উদিত রাজ দাবি করেছেন যে, এই নাম পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপ, কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদী জনগণের কাছে বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছে মানমোহন সিংহের মতো সহজলভ্য নয়। তিনি এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র প্রতীকী বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর অফিস এখন তার ৭৮ বছরের পুরনো সাউথ ব্লক থেকে একটি আধুনিক ‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হবে। এই স্থানান্তরটি কেন্দ্রীয় ভিস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে, যা আগে রাজভবনগুলির নাম পরিবর্তন করে ‘লোক ভবন’ করা হয়েছে।
নতুন সেবা তীর্থ-১, যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ-১ এর প্রথম বিল্ডিং, সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পরিচালিত হবে। এছাড়া সেবা তীর্থ-২ এবং সেবা তীর্থ-৩ ভবনগুলি ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অফিসের জন্য নির্ধারিত।
এই পরিবর্তনটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক জেলা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ। ‘কর্তব্য পথ’ (প্রাক্তন রাজপথ) কে আরও অ্যাক্সেসযোগ্য এবং পথচারী-বান্ধব একটি অঞ্চল হিসেবে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে, একটি নতুন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, যার নাম ‘কর্তব্য ভবন’ রাখা হয়েছে, নির্মাণ করা হচ্ছে।
এই কমপ্লেক্সটি ১০টি নতুন অফিস ভবন নিয়ে গঠিত, যেখানে বর্তমান শাস্ত্রী ভবন, নির্মাণ ভবন, কৃষি ভবন ইত্যাদি থেকে সরকারী মন্ত্রণালয়গুলি একত্রিত করা হবে। ‘কর্তব্য ভবন’ আধুনিক ও শক্তি দক্ষ সরকার পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া, দক্ষিণ ব্লক এবং নর্থ ব্লক ভবনগুলিকে ভবিষ্যতে যুগযুগান্তর ভারত সংগ্রহালয়ে পরিণত করা হবে, যার জন্য ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার পুরনো ভবনগুলির সীমাবদ্ধতা, যেমন প্রাকৃতিক আলো ও অকার্যকর নকশার কথা তুলে ধরেছেন, এবং এই কেন্দ্রীয় ভিস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নতুন ‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকার শুধু তার শারীরিক পরিকাঠামোই পরিবর্তন করছে না, বরং এটি একটি প্রতীকী মাইলফলকও হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ ব্লকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটাবে এবং একটি আধুনিক ও সমন্বিত শাসন ব্যবস্থার সূচনা করবে।

