নতুন দিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে শনিবার পর্যটন মন্ত্রক “পর্যটন এবং টেকসই রূপান্তর” থিমে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সরকার, পর্যটন শিল্প, একাডেমিয়া এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ভারতের টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী পর্যটন ব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এ বছরের থিমটি জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা-র ঘোষিত বৈশ্বিক থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের সহ-উপাধ্যক্ষ সুমন বেরি প্রধান অতিথি হিসেবে বলেন, পর্যটন কেবল অবসর বিনোদনের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জীবিকা সৃষ্টির দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে, তবে টেকসইতাকে আমাদের নীতির মূল কেন্দ্রে রাখতে হবে।” তিনি বিভিন্ন খাতে—যেমন পরিবহন, নগরোন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানান, যাতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো আরও সংযুক্ত ও সমভাবে উপকৃত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপি। তিনি বলেন, “পর্যটন খাতের বিকাশে পরিবহন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।” তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন স্বদেশ দর্শন ২.০, প্রসাদ স্কিম, ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক উদ্ভাবনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি উড়ান স্কিমের উল্লেখ করে জানান, এই প্রকল্প গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যটন সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে নেটফ্লিক্স-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক অন্যতম। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় পর্যটন গন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে চলচ্চিত্র, ট্রেলার ও প্রচারের মাধ্যমে। এছাড়া অতিথি ফাউন্ডেশন এবং শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা করার লক্ষ্যে।
মন্ত্রক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম চালু করেছে, যার মাধ্যমে পর্যটন প্রকল্পগুলোর রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও মূল্যায়ন সম্ভব হবে। এদিন ৬৬তম “ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কমপেন্ডিয়াম”-এর উদ্বোধন করা হয়, যেখানে ভারতের আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনে ২০তম স্থানের কথা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান এবং আর্থিক অবদানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া “গাইড টু মুদ্রা লোনস ফর হোমস্টেজ” নামে একটি বুকলেট প্রকাশ করা হয়, যেখানে জন সমর্থ পোর্টালের মাধ্যমে কীভাবে হোমস্টে পরিচালনার জন্য ঋণ পাওয়া যায়, তার ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা, যেখানে সড়ক, রেল, বিমান ও নৌপরিবহন মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁরা দেশের মধ্যে মাল্টি-মোডাল সংযোগ ও টেকসই পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও, মাহাকুম্ভ ২০২৫, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি প্রকল্পের মতো কেস স্টাডি ও AI, AR/VR ও ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যটন পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, “বিকশিত ভারত ২০৪৭” গঠনের লক্ষ্যে ভারত সরকার পর্যটনকে একটি কৌশলগত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।

