গড়চিরৌলি, ২৭ আগস্ট : মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি জেলার ছত্তীসগঢ় সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। ভামরাগড় তালুকার কোপার্শি জঙ্গলে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ৪ মাওবাদী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা রয়েছেন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি এসএলআর রাইফেল, দুটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি পয়েন্ট থ্রি নট থ্রি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গড়চিরৌলি-নারায়ণপুর সীমান্তে অবস্থিত কোপার্শি জঙ্গলে গড়চিরৌলি ডিভিশনের গট্টা দলম ও কোম্পানি নম্বর ১০-এর মাওবাদীদের লুকিয়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান) এম. রমেশ-এর নেতৃত্বে মহারাষ্ট্র পুলিশের সি-৬০ কমান্ডো বাহিনীর ১৯টি দল এবং সিআরপিএফ-এর ২টি কিউএটি ইউনিট অভিযানে পাঠানো হয়।
প্রবল বৃষ্টির কারণে অভিযান দেরিতে শুরু হলেও আজ সকালে নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা মাওবাদীরা আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। জবাবে পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। টানা আট ঘণ্টা ধরে চলা এই এনকাউন্টারে চার মাওবাদী নিহত হয়।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বাকি মাওবাদীদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে বাহিনী। নিহত মাওবাদীদের পরিচয় জানার কাজও চলছে। অভিযানে যুক্ত এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গড়চিরৌলিকে মাওবাদ মুক্ত করার লক্ষ্যে এই অভিযান এক বড় সাফল্য।
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলায় মাওবাদী বিরোধী অভিযানের সময় আইইডি বিস্ফোরণে শহিদ হন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গ্রুপ (ডিআরজি)-এর জওয়ান দিনেশ নাগ। এই বিস্ফোরণে আরও তিন জওয়ান আহত হন। ঘটনা ঘটে যখন ডিআরজি-এর একটি দল রবিবার থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়ে ন্যাশনাল পার্ক এলাকা ঘিরে ফেলেছিল। আচমকা বিস্ফোরণে দল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৭ আগস্ট বিজাপুর জেলাতেই ২৪ লাখ টাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত এক মাওবাদী সহ ৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিল। একইসঙ্গে একটি পৃথক সংঘর্ষে এক মাওবাদী নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

