জাতিসংঘ, নিউ ইয়র্ক, ৩০ মে: শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপর হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে লাক্রোয়া বলেন, “শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভারত যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা কেবল সেনা বা পুলিশ পাঠানোর বাইরেও শান্তিরক্ষায় ভারতের বিশাল অবদান।”
ভারত ২০২২ সালে “গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস ফর প্রমোটিং অ্যাকাউন্টেবিলিটি ফর ক্রাইমস এগেইনস্ট পিসাকিপেরস” নামে ৩৯টি সদস্য দেশের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেয়। একই বছরে, ভারত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত করতে সমর্থ হয়, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে শান্তিরক্ষী অভিযানের জন্য স্বাগতিক দেশগুলোকে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চালাতে এবং জাতিসংঘকে একটি হামলার তথ্যভান্ডার তৈরি করতে উৎসাহিত করা হয়।চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শান্তিরক্ষী বাহিনীর পাঁচ সদস্য হামলায় নিহত হয়েছেন।
লাক্রোয়া, যিনি এই বছর ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম নারী শান্তিরক্ষীদের সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে ছিলেন, বলেন—“আমরা চাই আরও বেশি নারী শান্তিরক্ষী থাকুক এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকায় অংশগ্রহণ বাড়ুক।”তিনি বলেন, “আমরা চাই আরও বেশি নারী সিনিয়র জেনারেল ফোর্স কমান্ডার পদে আবেদন করুন, যাতে নেতৃত্বেও নারীদের উপস্থিতি বাড়ে।”তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব একটি কার্যকর শান্তিরক্ষা মিশন নিশ্চিত করে, এবং এটি নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে সহায়ক। বর্তমানে জাতিসংঘে কর্মরত ৫,৩৭৫ জন ভারতীয় ‘ব্লু হেলমেট’-এর মধ্যে ১৫১ জন নারী। ভারত ২০০৭ সালে লাইবেরিয়ায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করে, যা বিশ্বে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ২০০৩ সালে কিরণ বেদি জাতিসংঘের প্রথম নারী বেসামরিক পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা ভারতের শান্তিরক্ষায় নেতৃত্বের আরেকটি নিদর্শন।

