‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: অপারেশন সিন্দুরে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে

নয়াদিল্লি, ২৫ মে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ‘আকাশবাণী’ থেকে সম্প্রচারিত ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, অপারেশন সিন্দুর শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি দেশের সংকল্প ও সাহসের প্রতীক। এই অভিযান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিখুঁত ও সাহসী পদক্ষেপের প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিযানের পর সারা দেশে দেশপ্রেম ও তিরঙ্গার প্রতি আবেগ আরও জোরদার হয়েছে। দেশের শহর, গ্রাম ও মফস্বলে তিরঙ্গা যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ সশস্ত্র বাহিনীর সম্মানে পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

তিনি আরও বলেন, অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাম বিহারের কাটিহার এবং উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ‘সিন্দুর’ রাখা হয়েছে, যা এই অভিযানের প্রতি মানুষের আবেগের প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অভিযানে ব্যবহৃত ভারতীয় প্রযুক্তি ও অস্ত্র আত্মনির্ভর ভারতের দৃঢ় প্রতীক। তিনি স্থানীয় প্রযুক্তিবিদ ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের প্রচেষ্টার ফলে দেশ ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর পথে এগোচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলির কাটেজহরি গ্রামে প্রথম বাস পৌঁছানোর ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় এই গ্রাম নকশালপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু আজ উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে। ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলায় দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল উজ্জ্বল হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি গুজরাটের গির অরণ্যে এশিয়াটিক সিংহের সংখ্যা ৬৭৪ থেকে বেড়ে ৮৯১ হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মহিলাদের বন আধিকারিক পদে নিয়োগ এবং সমাজের স্বত্ববোধই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

প্রধানমন্ত্রী সিকিমের ডঃ চেভাং নোরবু ভূটিয়া-র ক্রাফটেড ফাইবার উদ্যোগ এবং উত্তরাখণ্ডের জীবন জোশী-র পরিবেশবান্ধব শিল্পকলার প্রশংসা করেন।

তিনি তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি জেলার মহিলাদের ড্রোন ব্যবহার করে ওষুধ ছড়ানোর দক্ষতা তুলে ধরে বলেন, এখন এই নারীরা শুধুমাত্র ড্রোন অপারেটর নন, বরং ‘স্কাই ওয়ারিয়র’ নামে খ্যাত।

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বিশাখাপত্তনম-এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা জানান। তিনি বলেন, যোগব্যায়াম আজ চার প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করছে।

তিনি বলেন, ডব্লিউএইচও-র সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরের ফলে এখন থেকে আয়ুর্বেদের আন্তর্জাতিকীকরণ আরও বিস্তৃত হবে।

CBSE-র উদ্যোগে চালু হওয়া ‘শুগার বোর্ড’ স্কুলে শিশুদের মধ্যে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

আইটিবিপি বাহিনীর সদস্যরা মাকালু অভিযানে ১৫০ কেজি অজৈব বর্জ্য নিচে নামিয়ে এনে পরিবেশ রক্ষায় উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি টন কাগজ পুনর্ব্যবহারে ১৭টি গাছ কাটার হাত থেকে বাঁচানো যায়। ভারতের অনেক স্টার্টআপ এখন পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাগজ রিসাইক্লিং করছে।

এই বছর বিহার রাজ্য খেলো ইন্ডিয়া গেমসের সাফল্যপূর্ণ আয়োজন করেছে। তিনি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও রাজস্থান-এর পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, গত এক দশকে মধু উৎপাদনে ৬০% বৃদ্ধি হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তের হাজার হাজার নারী ও যুবক মধু উদ্যোগপতি হয়ে উঠেছেন। এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন মধুর গুণমান যাচাইয়ে সহায়ক।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে জন-অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। ভারতের শক্তি এটাই যে জনগণ নিজের দেশকে ভালোবাসে, তাকে গড়তে চায়।”