গুয়াহাটি, ১৯ মে : ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তানপন্থী এবং দেশবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে আসামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোমবার এক্স–এ জানান, “তিনজন দেশবিরোধীকে আটক করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম রুপসান আলি, রশিদ মন্ডল ওরফে আবদুর রশিদ, এবং রাজু শেখ। রুপসান আলিকে কোক্রাঝাড় থেকে, রশিদ মন্ডলকে গোলপাড়া থেকে এবং রাজু শেখকে দক্ষিণ সালমারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আসাম পুলিশ ডিজিটাল জগতকে কঠোরভাবে নজরদারিতে রেখেছে।”
এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের ফলে এখন পর্যন্ত আসামে মোট ৭১ জনকে পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর বিধায়ক আমিনুল ইসলাম।
ধিং বিধানসভা কেন্দ্রের এই এআইইউডিএফ বিধায়ককে ১ মে গ্রেপ্তার করা হয় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে, যখন তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয় ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলা নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে আমিনুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, “ছয় বছর আগে পুলওয়ামায় আরডিএক্স বিস্ফোরণে ৪২ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। আমি তখনই বলেছিলাম, ওই বিস্ফোরণ কেন্দ্র সরকারের চক্রান্তের ফল, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে জেতার ষড়যন্ত্র ছিল সেটি।”
তিনি বলেন, “পহেলগাঁওর ঘটনায় বিজেপি বলছে জঙ্গিরা ধর্ম জানতে চেয়ে শুধু হিন্দুদের গুলি করেছিল। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন, কাউকে কিছু না জিজ্ঞাসা করেই গুলি চালানো হয়েছিল। আমি সন্দেহ করি, পুলওয়ামা হামলায় যে নেটওয়ার্ক ছিল, তারাই এই হামলার পেছনে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত না করে এবং হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চেষ্টা করে, তবে আমি এটাকে ষড়যন্ত্র বলেই ধরে নেব।”
তবে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল তাঁর দলের বিধায়কের মন্তব্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “এআইইউডিএফ সরকারের পাশে আছে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, যারা সন্ত্রাস ছড়ায় তারা ইসলামবিরোধী।”
2025-05-19

