মণিপুরে আসাম রাইফেলসের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জঙ্গি নিহত, চলছে তল্লাশি অভিযান

ইমফল, ১৫ মে : মণিপুরের চান্ডেল জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আসাম রাইফেলসের সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১০ জন উগ্রবাদী নিহত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে উগ্রবাদী দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এই সংঘর্ষ ঘটে এবং এখনো অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
বুধবার শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আসাম রাইফেলস-এর পূর্ব কমান্ডার জানিয়েছেন, চান্ডেল জেলার খেংজয় এলাকার নিউ সামতাল গ্রামের কাছে, ভারত-মায়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উগ্রবাদীদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করা হয়।
আসাম রাইফেলস এক বিবৃতিতে জানায়, “১৪ মে খেংজয় এর নিউ সামতাল গ্রামের কাছে সশস্ত্র উগ্রবাদীদের গতিবিধির নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পিয়ার কর্পসের অধীনে আসাম রাইফেলস অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় উগ্রবাদীরা আসাম রাইফেলস এর জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে, বাহিনী সুসংগঠিত ও পরিমিত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা গুলিবিনিময়ে ১০ জন উগ্রবাদী নিহত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।”
নিহত উগ্রবাদীদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মণিপুরের বিদ্রোহীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
এই সংঘর্ষের দিনই মণিপুরের চারটি জেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের ১৪ জন উগ্রবাদী গ্রেফতার করা হয়েছে, এছাড়াও তিনজন বেআইনি অস্ত্র বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে।
ইম্ফল ইস্ট, থৌবল, বিষ্ণুপুর ও তেঙ্গনৌপাল জেলায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চালানো সমন্বিত অভিযানে এই সাফল্য এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা কাংগ্লেই ইয়াওল কানা লুপ, পিপলস লিবারেশন আর্মি, পিপলস রেভলিউশনারি পার্টি অফ কাংগ্লেইপাক, এবং কাংগ্লেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি-এর সদস্য বলে জানা গেছে।
এই সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা অপহরণ, চাঁদাবাজি, সরকারি কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অপরাধে যুক্ত ছিল। এরা সহিংস অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, আধার কার্ড, সন্দেহজনক নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
মণিপুরে উগ্রবাদী দমন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।