অপারেশন সিন্দুরের পর সীমান্তে উত্তেজনা চরমে, পাকিস্তানের ‘বর্বরোচিত’ গোলাবর্ষণে পুঞ্চ ও টাংধারে ১৫ জন নিহত, আহত ৪৩ জন

পুঞ্চ, ৭ মে: জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং টাংধার সেক্টরে বুধবার গভীর রাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ‘বর্বরোচিত’ আর্টিলারি ও মর্টার শেলিংয়ে অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও ৪৩ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পরপরই এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, “গত রাত থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি ফায়ার শুরু করে, যা সরাসরি বেসামরিক বসতিতে আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।”

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জম্মুর পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলা এবং কাশ্মীরের কুপওয়ারার উরি, কারনাহ ও টাংধার সেক্টর। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ২টার দিকে সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায় মানুষজনের। আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “পাকিস্তান মর্টার ও ভারী গোলাবারুদ দিয়ে মেন্ধার, মানকোট, থান্ডি কাসসি ও পুঞ্চ শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা সেনা নয়, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করছে। এটা সাহস নয়, কাপুরুষতার পরিচয়।”

মানকোটের বাসিন্দা সরদার নবনীত সিং বলেন, “পাকিস্তান ভারতীয় সেনার জবাবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে নিশানা করেছে। সামরিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা অনেকেই প্রাণ হারালাম, ঘরবাড়ি ছারখার হয়ে গেল।”

পুঞ্চের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, “চারদিকে রক্ত, কান্না, ধ্বংসাবশেষ—পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি।” ধাকি গ্রামের অন্তত ১৫০ জন বাসিন্দা তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসিন্দা খুরশিদ আহমদ জানান, “রাতের এই আক্রমণ আমাদের চিন্তাতেও ছিল না। প্রাণে বেঁচে গেছি বলেই এখন কিছুটা নিরাপদ জায়গায় গিয়ে থাকছি।”