সন্ত্রাসবাদ ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে, পহেলগাওঁ হামলা নিয়ে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

নয়াদিল্লি, ৩ মে : পহেলগাওঁয়ে গত সপ্তাহে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও বহু আহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার নয়াদিল্লিতে অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি জোয়াও লোরেন্সোর সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মানবতার সবচেয়ে বড় হুমকি — এ বিষয়ে আমরা একমত।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “পহেলগাওঁয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে সমর্থনের জন্য আমি অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি ও সে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এদিন ভারত সফরে আসা অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি জোয়াও লোরেন্সো ও তাঁর প্রতিনিধিদলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর কোনও অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতির ভারত সফরকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে শুধু ভারত-অ্যাঙ্গোলা সম্পর্কই নয়, ভারত-আফ্রিকা অংশীদারিত্বও নতুন গতি ও দিশা পাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছর ভারত ও অ্যাঙ্গোলা তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি পালন করছে, তবে এই সম্পর্ক তারও অনেক পুরনো এবং গভীর। “যখন অ্যাঙ্গোলা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিল, তখন ভারতও পূর্ণ আস্থা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল,” উল্লেখ করেন তিনি।

আজকের যুগে, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অ্যাঙ্গোলার অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস ক্রেতা দেশ ভারত। দুই দেশ এই জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “অ্যাঙ্গোলার সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।” পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মেরামতি, সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণে ভারত সহযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, মহাকাশ প্রযুক্তি ও সক্ষমতা নির্মাণে অংশীদারিত্ব করবে। স্বাস্থ্য, ডায়মন্ড প্রসেসিং, সার ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “অ্যাঙ্গোলায় যোগ ও বলিউডের জনপ্রিয়তা আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের শক্ত ভিতের প্রমাণ।”* দুই দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়াতে যৌথ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শুরু করার ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক সৌর জোটে অ্যাঙ্গোলার যোগদানে ভারতের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি, দুর্যোগ প্রতিরোধী অবকাঠামোর জন্য জোট, বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স-এ অ্যাঙ্গোলাকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একমত যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার সবচেয়ে বড় হুমকি। পহেলগাওঁয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করায় রাষ্ট্রপতি লোরেন্সোকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।” পাশাপাশি, “সন্ত্রাস ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার” প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতিত্ব পাওয়ার জন্য অ্যাঙ্গোলাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের সময় আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “ভারত ও আফ্রিকার দেশগুলো একসঙ্গে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল। আজও আমরা গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় একত্রে এগিয়ে চলেছি।”

গত এক দশকে আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। গত মাসেই ভারত-আফ্রিকার প্রথম নৌ-সামুদ্রিক মহড়া ‘এক্যম্’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে আফ্রিকায় ১৭টি নতুন ভারতীয় দূতাবাস খোলা হয়েছে। ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সুবিধা এবং ৭০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকার ৮টি দেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৫টি দেশে ডিজিটাল অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আফ্রিকান ইউনিয়ন উন্নয়নের অংশীদার, গ্লোবাল সাউথের স্তম্ভ। আমি নিশ্চিত, অ্যাঙ্গোলার নেতৃত্বে আমাদের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে।”