স্বসহায়ক দলের ৯৪,৭২৩ জন মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ এপ্রিল:
রাজ্য সরকার ‘ত্রিপুরা স্টেট পলিসি ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ উইমেন’ প্রণয়ন করে মহিলাদের স্বশক্তিকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আজ বিধানসভায় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী আনিত বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় একথা বলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়। বেসরকারি প্রস্তাবটি হল ‘ত্রিপুরা রাজ্যের মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এই সভা ত্রিপুরা সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে’। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে আলোচনায় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী মহিলাদের স্বশক্তিকরণে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য রাজ্যসরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনা করতে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে সরকারি চাকুরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারি বিভিন্ন বাজার স্টল এবং শপিং কমপ্লেক্সে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ স্টল বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর ফলে মহিলারা আরও বেশি করে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতি আকর্ষিত হচ্ছেন। সারা রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৮৭ জন মহিলা এবং মেয়েদের সামাজিক সুরক্ষা পেনশান প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের জন্য সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর থেকে ৪৫ জন নির্বাচিত মহিলা ও মেয়েদের ড্রাইভিং এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মাত্রু পুষ্টি উপহার প্রকল্পে ২১,৫৫১ জন মহিলাকে সহায়তা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাত্রুবন্দনা যোজনায় ১,৪২,৭৫৯ জন মহিলাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ২০,১১৮ জন অঙ্গনওয়াড়িকর্মী ও সহায়িকা রয়েছেন।

গত দুই অর্থবছরে ২,১৯৯ জনকে অঙ্গনওয়াড়িতে চাকুরি দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা শহুরী আজীবিকা মিশনে ৫,৮৯৫টি স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। তাদের ৯৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনে ৫২,৯০২টি স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। এই স্বসহায়ক দলের সাথে ৪,৭৫,৫৮২ জন গ্রামীণ মহিলা যুক্ত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের ৭৪০ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১,৫৩৯ কোটি টাকা ব্যঙ্ক ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৭২৩ জন মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন। আরও ৯৩, ৪২৫ জন মহিলাকে লাখপতি দিদি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৬৫ জন স্বসহায়ক দলের মহিলাদের কৃষি ও পশুপালন ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, সারা রাজ্যে ১০টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপনের জন্য ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধীনে রাজ্য মহিলা আশ্রম থেকে ২ জন ছাত্রীকে হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষার জন্য সহায়তা করা হয়েছে। পরে বেসরকারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে সভাকর্তৃক গৃহীত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *