কলকাতা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদেরও আধার-ভোটার কার্ড রয়েছে। তাই এই দুই পরিচয়পত্র কি আদৌ ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণ? সোমবার জাল পাসপোর্ট মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন তুলে দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
বর্ধমানের বাসিন্দা দুলাল শীল ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না শীলকে একবছর আগে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা আদতে বাংলাদেশি। জাল আধার-ভোটার কার্ড বানিয়ে এদেশে থাকছিলেন বলে দাবি পুলিশের। সোমবার তাঁদের জামিন মামলায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিচারপতি।
তাঁর পর্যবেক্ষণ, “আধার কার্ড, ভোটার কার্ড থাকলেই ভারতীয় নাকি? এই রকম জাল আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড প্রত্যেক বাংলাদেশির আছে। ওদের আবার কেউ কেউ এদেশের নাগরিক দেখাতে করও দেয়।” তাঁর কথায়, “আমেরিকা থেকে যাদের বের করে দিচ্ছে, তাঁদের মধ্যেও এই একই ঘটনা দেখা যাচ্ছে।”
এদিন মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, অভিবাসন দফতর থেকে কেউ উত্তর দেয়নি। ফলে পাসপোর্ট জাল করেছে, তা কীভাবে প্রমাণিত? জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে এদেশে আসে ওই পরিবার। ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অ্যামেন্ড আইন ২০১৯ আইনের ধারা ২ অনুযায়ী ২০১৪ সালের আগে যারা এদেশে এসেছেন তাঁদের এদেশের নাগরিক বলে গণ্য করা হবে। এই যুক্তি দেখিয়ে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অভিযুক্তদের আইনজীবী। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। বর্ধমানের ওই দম্পতির জামিন খারিজ করে দেয় আদালত।