ত্রিপুরায় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিজেপির ২০ শতাংশ আসনেও জয়লাভ করা অসম্ভব ছিল : জিতেন্দ্র

আগরতলা, ১৩ আগস্ট: ত্রিপুরায় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংগঠিত হলে বিজেপির ২০ শতাংশ আসনেও জয়লাভ করা অসম্ভব ছিল। কারণ,  পঞ্চায়েতের আসনগুলি জবরদখল করে  নিয়েছে বিজেপি। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রকাশিত ফলাফল জনগণের রায় নয়। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সাথে তিনি যোগ করেন, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আগামীদিনে লড়াই আরও জোরদার হবে। 

এদিন শ্রী চৌধুরী বলেন, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবার পর থেকে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছে বিজেপি। তারপর থেকে শাসক দল বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীরা বিরোধীদলের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছেন। সিপিএমের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে বাধা দিয়েছিল। ফলে সিপিএমের একাধিক কর্মী আহত ও একজন নিহত হয়েছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পূর্বেই রাজ্যের প্রায় ৭১ শতাংশ আসনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। তারপরও ভোট গ্রহণের দিন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটারদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেমনি, ভোট গণনার দিনও শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীরা রাজ্যের সন্ত্রাসের বাতাবরণ কায়েম করে রেখেছিলেন। বিভিন্ন ব্লকের গণনা কেন্দ্রে বিরোধীদলের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। 

তাঁর আরও অভিযোগ, পূর্বেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে কাছে আবেদন করার পরও বিরোধীদলের এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের ফলাফলের দিন করুণ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। গতকাল রাজনগর, কাকঁড়াবন, তেপানিয়া, কদমতলা, কাঠাঁলিয়া, যুবরাজনগর, চন্ডিপুর ব্লকে বিরোধী দলের এজেন্টদের জোর পূর্বক গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনেকটি আসনে বিরোধীদলের প্রার্থীরা জিতছেন দেখে ফলাফল ঘোষণা করতে দিচ্ছিলেন না শাসক দলের কর্মীরা। এবিষয়ে একাধিক বার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা হয়েছে। গতকালই কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাজ্যে সন্ত্রাস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে নি। 

এদিন তিনি আরও বলেন, কাঁঠালিয়ায় গননা কেন্দ্রে বিজেপি সন্ত্রাসীদের প্রাণঘাতী হামলায় আহত হয়েছেন সিপিআইএমের নেতা কর্মীরা। বর্তমানে তারা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে আছেন। 

তাঁর কথায়, রাজ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংগঠিত হলে বিজেপি ২০ শতাংশ আসনেও জয়লাভ করা অসম্ভব ছিল। কারণ, পঞ্চায়েতের আসনগুলি জবরদখল করে নিয়েছে বিজেপি। তারা রাজ্যে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করছে। আগামীদিনে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করে তুলে হবে।