করিমগঞ্জ (অসম), ৪ এপ্রিল (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী সফরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করিমগঞ্জে শক্তি প্রদর্শন করল কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও কৰ্মকর্তা উপস্থিত না থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল পর্বে জনসমুদ্রে পরিণত হয় সীমান্ত শহর করিমগঞ্জ। আগামী ২৬ এপ্রিল করিমগঞ্জ লোকসভা আসনে হবে ভোটগ্রহণ। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মনোনয়ন পেশের শেষ দিন রীতিমতো চমক দেখালেন কংগ্রেস প্রার্থী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয় পৰ্যায়ের মনোনয়ন দাখিলের অন্তিম দিন বিশাল মিছিল করে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক মৃদুলকুমার যাদবের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করছেন সাত নম্বর করিমগঞ্জ লোকসভা আসনের কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী। বেলা একটায় মনোনয়ন পত্র পেশ করেছেন হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন দুপুরে কানিশাইল থেকে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে হুড খোলা মাহিন্দ্র থারে দাঁড়িয়ে বিশাল কর্মী-সমর্থককে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী আসেন জেলাশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে। তারপর মাহিন্দ্র থার থেকে নেমে দলের প্রাক্তন ও বর্তমান জেলা সভাপতি যথাক্রমে সতু রায় ও রজত চক্রবর্তী সহ চারজনকে সঙ্গে নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসার মৃদুল যাদবের হাতে তাঁর মনোনয়নপত্র তুলে দেন করিমগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী।
শোভাযাত্রায় সঙ্গে ছিলেন বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা সতু রায়, হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস সভাপতি, কাটিগড়ার বিধায়ক খলিল উদ্দিন মজুমদার, রাজ্য বিধানভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ বিজেপি-ত্যাগী সদ্য কংগ্রেসি সোনাইয়ের প্রাক্তন বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর সহ অনেকে।
বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পেশ করে করিমগঞ্জ থেকে গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী। বলেন, দেশে বর্তমানে একটি শক্তি রয়েছে যারা দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে ধ্বংস করতে চায়। অন্যদিকে একটি শক্তি আছে যারা সংবিধানকে রক্ষা করছে এবং আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে রক্ষা করে আসছে।
হাফিজ বলেন, ভারতের অন্তরাত্মার জন্য এই লড়াই। ঘৃণা, দুর্নীতি, অবিচার, যা ভারত মাতার কণ্ঠরোধ করতে চায়, তার হাত থেকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এবারের নির্বাচন। এবারের নির্বাচন দেশকে রক্ষা করার লড়াই। যাঁরা সংবিধানকে মানতে চায় না এবং অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে হবে।
হাফিজ রশিদ বলেন, করিমগঞ্জে তাঁর বাড়ি। তবুও বৃহস্পতিবারের শোভাযাত্রায় দুই জেলার মানুষ যে ভালোবাসা, স্নেহ, সম্মান দিয়েছেন তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। বলেন, মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দুই জেলার মানুষ নীরবে চোখের জল ফেলছেন। এর প্রমাণ মিলবে ভোটের দিন। নিজের জয় নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যেভাবে মানুষ এগিয়ে এসেছেন, তাতে কংগ্রেসের বিজয়রথ আটকাতে পারবে না কোনও শক্তিই।
কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, গতকাল বুধবার করিমগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী জনসভা থেকে দ্বিগুণ মানুষ হয়েছেন আজকের কংগ্রেসের রেলিতে। কোনও উচ্চস্তরের নেতা না থাকা সত্ত্বেও ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটার নিজের খরচায় এগিয়ে এসে যোগদান করেছেন কার্যসূচিতে। কংগ্রেসের এক-একজন ভোটারই হচ্ছেন এক-একজন সিএম, বিধায়ক সহ প্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিলে জেলার মানুষকে ৫ হাজার টাকা খরচ করে গুয়াহাটিতে গিয়ে দেখা করতে হবে, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে হাফিজ রশিদ বলেন, এটা কোন পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচন নয়। মানুষ ভোট দিয়ে এম পি বানাবেন দিল্লি পাঠানোর জন্য। জেলার ন্যায্য আদায়ে দিল্লিতে লড়াই করতে হবে। এনজিও বা ঠিকাদারি করার জন্য ভোটাররা ভোট দিয়ে সাংসদ নির্বাচিত করেন না।



















