আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি : ভারতে অবৈধভাবে আসা ১২ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আজ বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের উদ্যোগে আগরতলা -আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে প্রত্যাবাসন করানো হয়েছে। আজ সকালে ওই ১২ জন বাংলাদেশী নাগরিককে তাঁদের পরিবারের সদ্যসদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ১৫ দিন পর পরিবারের সদ্যসরা তাঁদেরকে কাছে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
ভাইকে নিতে আসা মহম্মদ রবিন জানিয়েছেন, গত ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর মাসে অবৈধ ভাবে ত্রিপুরায় প্রবেশকালে ভাই মহম্মদ ফারুখ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আসমা বেগমকে পুলিশ আটক করেছিল। ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাতের বেলা দালালের মাধ্যমে তাঁরা ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছিলেন। মৌলভী বাজার বর্ডার থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা পুলিশ পরিবারকে ঘটনাটি জানিয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ মাস ১৫ দিন পর আজ বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের উদ্যোগে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি হাই কমিশন এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সাথে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে দালালের সহযোগিতায় অবৈধভাবে ত্রিপুরায় পারাপারের বিষয়টিতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
অপর জনৈক পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য দালালের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছিলেন তাঁর মা ও ভাই। দীর্ঘ ১ বছর পর তাঁদের বাংলাদেশ পাঠানো হবে।
বাংলাদেশী নাবালিকা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে সে গান্ধীগ্রামস্থিত পিসি দীপ্তি দাস তাকে বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কিছু দিন পর থেকে শারীরিক নির্যাতন করতেন তাঁর পিসি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল তাঁর পিসি। তখন রাস্তায় একজন মহিলা তাঁকে উদ্ধার করে জওহরলাল নেহেরু বালিকা নিবাসে পাঠিয়েছিলেন। আজ ওপারে তাঁর মা অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
১২ জন বাংলাদেশী নাগরিকরা হলেন, জবা রানী রায়, জগদীশ রায়, বিউটি হেনা চৌধুরী, রিয়াহ হোসেন, বীনা বেগম, মহম্মদ শেখ, শাহিনা বেগম,মহম্মদ শামিন, সুহান মিঞা, মহম্মদ ফারুখ হোসেন, আসমা বেগম এবং তৃষ্ণা অধিকারী।

