নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.): বিরোধীরা মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা করে না, তাঁরা শুধুমাত্র রাজনীতির কথাই ভাবে। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্যে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় আঞ্চলিক পঞ্চায়েতি রাজ পরিষদের উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “এই কারণেই বিরোধীরা আলোচনা এড়িয়ে চলেন এবং অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্ককে অগ্রাধিকার দেন।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বিরোধীরা সদন ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তা দেখেছে গোটা দেশ। কিন্তু দুঃখজনক যে, এই সমস্ত মানুষজন মণিপুরের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন বলেছেন, “মণিপুর নিয়েই বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আসলে কি হয়েছে, আপনারা সবাই তা দেখেছেন। বিরোধীরা আলোচনা হতে দেয়নি! যদি এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা হতো, তাহলে মণিপুরের মানুষ স্বস্তি বোধ করত… এই সমস্যাটির সমাধানের জন্য কিছু সমাধান বের হতো। কিন্তু বিরোধীরা এটা নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি, কারণ তাঁরা জানত মণিপুরের সত্য তাঁদের সবচেয়ে বেশি দংশন করবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, “আমরা সংসদে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবকে পরাজিত করেছি এবং যারা গোটা দেশে নেতিবাচকতা ছড়াচ্ছে তাঁদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছি। বিরোধী দলের সদস্যরা মাঝপথে সংসদ ত্যাগ করেন। সত্য হল তাঁরা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দিতে ভয় পেয়েছিল।” পশ্চিমবঙ্গে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিজেপি প্রার্থীদের হুমকি ও বুথ দখল করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “কোনও বিজেপি প্রার্থী যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রয়োজনীয় সবকিছু করে…তাঁরা শুধুমাত্র বিজেপি কর্মীদেরই নয়, ভোটারদেরও হুমকি দেয়। বুথ দখলের জন্য কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়…এটাই তাঁদের রাজনীতি করার উপায়।” এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সুকান্ত মজুমদার প্রমুখ।

