আগরতলা স্টেশনে ভেঙে পড়ল ইঞ্জিনের বিশাল শেড, সংকটজনক তিন শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ মার্চ৷৷ রেলের নির্মীয়মাণ ইঞ্জিনের শেড ঘরের কাঠামো ভেঙ্গে পড়লে তিনজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন৷ রবিবার সকাল ১০ টা নাগাদ আগরতলা রেল স্টেশনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে৷  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন আগরতলা রেল স্টেশন চত্বরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷
DSC_0186স্টীলের কাঠামো দিয়ে আগরতলা রেল স্টেশনে রেল ইঞ্জিনের শেড ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল৷ রবিবার সকালে নির্মাণ কাজ চলার সময় শেড ঘরের গোটা স্টীল কাঠামোটি মাটিতে লুটিয়ে পরে৷ এই ঘটনায় তিনজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন৷ ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, স্টীল বিম দিয়েই এই শেড ঘর নির্মাণ হয়েছিল৷ গত পাঁচদিন যাবৎ রেল ইঞ্জিনের শেড ঘরের কাঠামোটি দাঁড় করা হয়েছিল৷ রবিবার থেকে চলছিল স্ক্রু, নাট টাইট করার কাজ৷ চারদিক দিয়েই ইস্পাতের  দড়ির মাধ্যমে শেডঘরটি টানা ছিল৷ জানা গেছে রবিবার সকালে শেডঘরের নাটব্লুট গুলো টাইট করার কাজে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক নিযুক্ত ছিল৷ এমন সময় স্টেশনের আভ্যন্তরীণ চত্বরে মাটি কাটার জন্য একটি ক্রেন নির্মীয়মাণ শেডঘরটির সামনে দাড়ায় এবং ক্রেনের চালক একটি ইস্পাতের দড়ি খুলে দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের অনুরোধ করেন৷ ক্রেন চালকের অনুরোধে সারা দিয়ে ২/৩ জন শ্রমিক নির্মীয়মাণ রেল ইঞ্জিনের  শেডঘরের একটি টানা খুলে দিতেই হুড়মুড়িয়ে বিকট শব্দে গোটা শেডঘরের স্টীল বীমের কাঠামোটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ উপস্থিত বুদ্ধির জোড়ে ১০-১২ জন শ্রমিক মাটিতে লাফিয়ে পড়ে অক্ষতভাবে বেঁচে যান৷ কিন্তু শেডঘরের মাঝখান বরাবর কর্মরত তিনজন শ্রমিক বেরিয়ে আসতে পারেননি৷ এই ঘটনায় এই তিন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন৷ জানা গেছে৷ নির্মাণ সংস্থার এক ঠিকেদারও এই ঘটনায় সামান্য আঘাত পান৷ এক প্রত্যক্ষদর্শী এ সংবাদ জানিয়েছেন৷ রেল ইঞ্জিনের শেডঘর নির্মাণের নির্মাণ সংস্থার অপর এক কর্মীও একই কথা জানিলে বলেন, অধিকাংশ শ্রমিকরাই বড়াৎ জুড়ে বেঁচে গেছেন৷ তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন৷ চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগরতলা রেল স্টেশন চত্বরে নিযুক্ত অন্যান্য শ্রমিকদের  মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এদিকে, আহতদের নাম ও ঠিকানা জানানোর ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে অক্ষমতা প্রকাশ করেন নির্মাণ সংস্থার সাথে নিযুক্ত আধিকারিকরা৷ আহতদের জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা বলা হলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে আইএলএস হাসপাতালে৷ এর ফলে কি রাজ্য পুলিশ কি রেল পুলিশ কারোর কাছেই আহতদের নাম ও ঠিকানার তালিকা পাওয়া যায়নি৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়৷ উল্লেখ্য, আগামী ২৬ বা ২৭ মার্চ  ব্রডগেজে রেলের নিরাপত্তার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের সেফটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ দল রাজ্যে আসছেন৷ আর এর আগে এই ঘটনা ব্রডগেজ রেলের যাত্রা শুরুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা না সৃষ্টি হয় তা নিয়েই তথ্যভিজ্ঞ মহলে বিস্তর জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে৷ জানা গেছে, রেল পুলিশ এবং রাজ্যপুলিশ এই ঘটনার পৃথক পৃথক তদন্ত শুরু করেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *