গভীর সঙ্কটে দেশের অর্থনীতি, চিন্তন শিবিরে দাবি কংগ্রেসের

উদয়পুর, ১৪ মে (হি.স.) : দেশের অর্থনীতি এমনিতেই ধরাশায়ী। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, মুদ্রাস্ফীতির চড়া হার, কর্মসংস্থানের অভাব, পেট্রপণ্যের আগুন দাম, গমের উৎপাদনে ঘাটতি সব মিলেমিশে বিপদ ঘনীভূত হয়ে রয়েছে। এ হেন পরিস্থিতিতে শনিবার উদয়পুরে কংগ্রেসের চিন্তন শিবির থেকে অর্থনীতিকে ‘রিসেট’ করার ডাক দিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম সহ দলের শীর্ষ নেতারা। ‘রিসেট’ বলতে আর্থিক নীতি পরিবর্তনের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন তাঁরা।

চিন্তন শিবিরে শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে চিদম্বরম বলেন, ঘরোয়া অর্থনীতির অবস্থা ভয়ঙ্কর উদ্বেগজনক। তার কারণ, দেশে বৈষম্য ক্রমশ আরও প্রকট হয়ে উঠছে। দেশের জনসংখ্যার নিচের দিকে ১০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্রে ভুগছে। বিশ্ব ক্ষুধার সূচকে গোটা দুনিয়ার ১১৬ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ভারত এখন ১০১ তম স্থানে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিশু ও মহিলার মধ্যে অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। এর নিদান চাই। নীতি বদল না করলে তা সম্ভব নয়। তাই রিসেট অপরিহার্য।
ভারতে আর্থিক উদারিকরণের জনক কংগ্রেসই। ১৯৮৪ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় দেশের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থনৈতিক সংস্কারের ভিত তৈরি করেছিলেন। পরে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় নরসিংহ রাও সরকার মুক্ত অর্থনীতির পথে হাঁটা শুরু করে। এদিন চিদম্বরম বলেন, ৯১ সালের সেই উদারিকরণ নীতি দেশের অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল। তার ফলে দেশ প্রভূত সম্পদ তৈরি করতে পেরেছে, নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে, নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, রফতানি বেড়েছে। আর তার পরিণামে ১০ বছরের মধ্যে দেশের ২৭ কোটি মানুষকে সেই সময়ে দারিদ্র থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।