নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ২৯ আগস্ট৷৷ শারদীয়া দুর্গোৎসব সমাগত প্রায়৷ কাশ ফুলের সমাহার ও ঢ়াকে কাঠি করার মধ্য দিয়ে ভেসে আসে আগমনী বার্তা৷ প্রকৃতি যেন গন্ধ ছড়িয়ে দেয়ায় গোটা মর্তলোকে৷ সেই আনন্দ মুখর দিনের অপেক্ষায় গোটা রাজ্যবাসী৷ প্রতিটি বাঙালির জন্য একটি বিশেষ এবং শুভ উৎসব৷ এটি সমগ্র সম্প্রদায়কে একত্রিত করে৷ মানুষের রাগ, অভিমান, ঝগড়া, দুঃখ সব ভুলিয়ে দেয়৷
প্রতিবছর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার সূচনা হয়৷ ঢাকের আওয়াজ থেকে শুরু করে ’’শিউলি’’ ও ’’কাশ’’ ফুল থেকে কুমোরটুলির মাটির প্রতিমা এবং রাস্তায় জনস্রোত৷ প্রতিটি বাঙালি এই সংকেতগুলির সাথে অনুরণন করতে পারে যে দুর্গাপূজা একদমই দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছে৷ শুধু দরজা খুলে ঢোকার পালা৷ তবে কাশফুল সম্বন্ধে একটু না বললেই চলে না৷ এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সাদা রঙের ঘাস জাতীয় একটি ফুল৷ সাধারণত ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানে জন্মায় কাশ ফুল৷ শরৎ কালে ফোটে এই ফুল৷ শরতের কাশফুল এবং শারদীয়া দুর্গা পূজা পরস্পরের পরিপূরক৷ এই ফুল ফুটলে মানুষ বুঝতে পারে শরৎ আগত৷ আর শরৎকাল আসা মানেই মা আসছেন…৷ শরতের কাশফুলের সাদা শুভ্রতা আর তার সঙ্গে ঢাকের আওয়াজ মনে করিয়ে দেয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তার কথা৷ হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মা দূর্গা আসে কাশফুলকে সঙ্গী করে৷
শরতের ভোরের শিশিরের পরশ, ঢাকের শব্দ আর ভোরের শিউলি তলা-এসবই মনে করিয়ে দেয় আসছে দূর্গাপুজো৷ কথিত আছে, দেবী দুর্গার সব থেকে পছন্দের ফুল শিউলি৷ তাই, দুর্গাপুজোর অঞ্জলিতে শিউলি ফুলের গুরুত্ব অপরিসীম৷ শরতের শিউলি ফুল বয়ে আনে দূর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা৷ এই ফুল ব্যবহার না করলে দূর্গাপূজা অসম্পূর্ণ৷ শিউলি ফুল প্রতিটি বাঙালিকে এই অনুভূতি দেয়, মা দুর্গা আসছেন৷বাঙালীর প্রিয় উৎসব দূর্গাপূজা প্রায় দ্বারপ্রান্তে৷ দূর্গাপূজা প্রতিটি বাঙালির জন্য একটি বিশেষ এবং শুভ উৎসব৷ এটি সমগ্র সম্প্রদায়কে একত্রিত করে৷ মানুষের রাগ, অভিমান, ঝগড়া, দুঃখ সব ভুলিয়ে দেয়৷ প্রেম এবং নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র ত্রিপুরা নয়, সারা ভারত জুড়ে পালিত হয়৷ শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে তেলিয়ামুড়া শহর সহ গোটা ত্রিপুরার আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ৷ এই শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে এক গৃহিণী স্বপ্ণা গোস্বামী ভৌমিক ছন্দে তুলে ধরেন, ভোরের ঝরে পড়া শিউলী, আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ, মাঠে ঘাটে বাতাসে দোলা লাগানো কাশফুল জানান দিচ্ছে ‘মা’ আসছেন৷ হাতে গোনা আর মাত্র কয়েক দিন৷ তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়বে৷ নরী শক্তিরুপে মায়ের আগমন ঘটবে মর্তে৷

