রাঁচি, ৬ এপ্রিল(আইএএনএস): ‘সামাজিক লজ্জা’ ঢাকতে নাবালিকা খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল ঝাড়খণ্ডে। রাঁচি পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এক ব্যক্তি ও তাঁর ছেলে মিলে ওই নাবালিকাকে খুন করে দেহ গোপনে গয়া নিয়ে গিয়ে দাহ করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঁচির রাতু থানার অন্তর্গত এলাকায় বসবাসকারী অভিযুক্ত সুবোধ পাঠক প্রায় আট বছর আগে দরিদ্র পরিবারের ওই নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে লালন-পালন করছিলেন। কয়েকদিন আগে হঠাৎ তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
প্রতিবেশীরা প্রশ্ন তুললেও পরিবার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। ২ এপ্রিল রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
প্রথমে নিখোঁজের মামলা হিসেবে শুরু হলেও তদন্তে খুনের ঘটনা সামনে আসে। ফরেনসিক দল নিয়ে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও প্রথমে বিশেষ কিছু মেলেনি। পরে এফআইআর দায়ের করে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে সুবোধ পাঠক ও তাঁর ছেলে রাহুল পাঠককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে নামানো হয়। দীর্ঘ জেরায় তারা খুনের কথা স্বীকার করে।
অভিযুক্তদের দাবি, নাবালিকার সঙ্গে রাহুলের দুলাভাইয়ের ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ায় ‘লোকলজ্জার’ ভয়ে তারা এই পরিকল্পনা করে খুন করে।
পুলিশ জানায়, খুনের পর দেহ একটি ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে করে গয়ায় নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক পিন্টু কুমার সিংকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্তরা তাকে বলেছিল তাদের ১৩ বছরের মেয়ে মারা গেছে।
ঘটনায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সুবোধ পাঠক ও রাহুল পাঠককে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার ক্রম আরও স্পষ্ট করতে তদন্ত চলছে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



















