আগরতলা, ৩ এপ্রিল: ত্রিপুরায় মাদকদ্রব্য চোরাচালান রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগরতলা সাব-জোনাল অফিস থেকে ইডি মোট ১৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনটি প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্ট দাখিল করেছে। এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ২০০২-এর ৪৪ ও ৪৫ ধারায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিশেষ আদালতে।
ইডির তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই তিনটি মামলাই এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠিত মাদক পাচার থেকে অর্জিত অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জিরানিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে লিটন সাহা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইডি। তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের ২১(সি) ও ২৯ ধারায় মামলা রুজু হয়। পরে ৩১ মে ২০২৪ তারিখে সোনামুড়া বিশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ত্রিপুরা পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, লিটন সাহা অবৈধভাবে কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ (এসকফ) পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের হাতে ৯,৫৯০ বোতল কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়। এগুলি তার পরিবহন সংস্থা ‘এম/এস স্বস্তিক রোডওয়েজ’-এর মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছিল। ইডির দাবি, এই অবৈধ আয় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবসার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
তাছাড়া, দেবব্রত দে ও অন্যান্য মামলা
পানিসাগর ও মুঙ্গিয়াকামি থানায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক এফআইআর-এর ভিত্তিতে দেবব্রত দে ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রথম ঘটনায় ১,৩৫২ কেজি শুকনো গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয় (২০১৮), এবং দ্বিতীয় ঘটনায় ১৪,৪০০ বোতল ফেনসিডিল কফ লিন্টাস উদ্ধার করা হয় (২০২১)। এই দুটি মামলায় যথাক্রমে ধর্মনগর ও খোয়াই বিশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে মাদক পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং সেই থেকে অর্জিত অর্থ পাচারের চিত্র সামনে এসেছে।
ইডি জানিয়েছে, রাজ্যে সংগঠিতভাবে মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
……….



















