নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল (আইএএনএস): ভোটের মুখে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক হারে অবৈধ অনুপ্রবেশ বাড়ছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যেই দুই রাজ্যের পুলিশকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থির করতে বড়সড়ভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। সংখ্যাটা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই এই অনুপ্রবেশ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমে এক জনসভায় বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ শুধু নির্বাচনী ইস্যু নয়, এটি রাজ্যের পরিচয় ও দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এর প্রভাব পড়ে কৃষিজমি, গরিব ও আদিবাসীদের জীবিকা এবং মহিলাদের নিরাপত্তার উপর।
এই সতর্কতার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় নিউ দিল্লিগামী নর্থ-ইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ১৪ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স। তারা ভুয়ো নথি ব্যবহার করে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে জেরায় জানিয়েছে এবং তাদের গন্তব্য ছিল দিল্লি।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে দালাল চক্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এতজন অনুপ্রবেশ করছে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সীমান্তের যেসব অংশে এখনো বেড়া নেই, সেগুলিই অনুপ্রবেশের প্রধান পথ হয়ে উঠছে। প্রায় ৪,০৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩,১৪১ কিলোমিটার এখনও সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত নয়। পশ্চিমবঙ্গে ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৫৬৯ কিলোমিটার অংশে বেড়া নেই। অন্যদিকে অসমে জলাভূমি, পাহাড়ি এলাকা ও নদীঘেরা সীমান্ত থাকায় বেড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, এই সময়ে আরও অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা হলেও কিছু ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।



















