দিল্লি পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য অস্ত্র সরবরাহকারী, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র

নয়াদিল্লি, ২৯ মার্চ(আইএএনএস): বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ-এর ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আন্তঃরাজ্য অস্ত্র সরবরাহকারী মোহাম্মদ ইসরার (৫২)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে সক্রিয় একাধিক সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইসরার ২০২৪ সাল থেকে পলাতক ছিলেন এবং তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়াও হরিয়ানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আরও ৫ হাজার টাকার পুরস্কার ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তদন্তে জানা যায়, গত বছরের আগস্টে দিল্লিতে অঙ্কিত (২৪) নামে এক শুটারকে গ্রেফতার করা হলে তার কাছ থেকে তিনটি আধুনিক পিস্তল, একটি সিঙ্গেল-শট পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও একটি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। ওই অস্ত্রগুলি ইসরারই সরবরাহ করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসরার উত্তরপ্রদেশের কাইরানায় একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা চালাতেন, যা প্রায় দু’মাস আগে ভেঙে দেওয়া হয়।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার স্কোয়াড (এজিএস), ইনস্পেক্টর কৃষ্ণ কুমারের নেতৃত্বে এবং এসিপি ভগবতী প্রসাদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অভিযুক্তের সন্ধান পায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২৫ মার্চ দিল্লি-লোনি সীমান্তে ফাঁদ পেতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি সিঙ্গেল-শট পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে ইসরার অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের কাজে জড়িয়ে পড়েন। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি এবং তার দুই স্ত্রীর থেকে মোট ১০টি সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথমবার তিনি জেলে যান।

পরে মুক্তি পেয়ে তিনি ব্যাঙ্ক ডাকাতি, খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে যুক্ত দুষ্কৃতীদের কাছে নিয়মিত অস্ত্র সরবরাহ করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হরিয়ানার গোহানায় জয়পাল দুধিয়া খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রও তিনি সরবরাহ করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মতে, এই গ্রেফতারি দিল্লি এনসিআর জুড়ে সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অস্ত্র পাচার রুখতে বড় পদক্ষেপ।

Leave a Reply