মুম্বই, ২৬ মার্চ (আইএএনএস): ইরান সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও আলোচনা করছে না—এই বার্তার পরই আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স প্রায় ১.২১ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৪৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ১.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যে যোগাযোগ হচ্ছে, তা কোনওভাবেই সরাসরি আলোচনা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পাশাপাশি, মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরান নাকচ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দামে সাম্প্রতিক ওঠানামা ভারতের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার পরিবর্তনে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ০.৩ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে খুচরো মূল্যস্ফীতি ২০-৩০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে যে, ভারতসহ পাঁচটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের জাহাজের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই দেশগুলির জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
ভারতের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ইরাকের জাহাজকেও এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং বর্তমান সংঘাতে জড়িত কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান।

