পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট: ভারতীয়দের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও আত্মনির্ভরতায় জোর কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ২৫ মার্চ (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার চলমান সঙ্কটের আবহে ভারতীয়দের নিরাপত্তা, গ্যাস ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রথম লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই ৩.৭৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে ইরান থেকে ৭০০-র বেশি মেডিক্যাল ছাত্রও রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক দফায় কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলি, ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণ নাগরিক, অবকাঠামো এবং জ্বালানি ও পরিবহণ ব্যবস্থার উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সব পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। সব রিফাইনারি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক। গুজবের জেরে কিছু এলাকায় অযথা মজুতদারি বা আতঙ্কজনক কেনাকাটা হচ্ছে বলে জানিয়ে তা খারিজ করেছে সরকার।

সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের বদলে ৪১টি দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৩ লক্ষ টনেরও বেশি কৌশলগত তেল মজুত তৈরি হয়েছে, যা ৬৫ লক্ষ টনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো, পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস প্রসার এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে ৭০ হাজার কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো হবে।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত সার মজুত রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা বজায় রাখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে, রেস্তোরাঁ, ধাবা, ক্যান্টিন ও শ্রমিকদের জন্য বাণিজ্যিক এলপিজির বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলিতে ১০০ শতাংশ পিএনজি ও সিএনজি সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে, যদিও শিল্প ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

মজুতদারি রুখতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,৪০০টি অভিযান চালানো হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রায় ১,০০০টি সিলিন্ডার, দায়ের হয়েছে ৬৪২টি এফআইআর এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫৫ জনকে।

সমুদ্রপথে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নজর রাখা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’ নামে দুটি ভারতীয় এলপিজি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের পথে রয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক ও বিভিন্ন দেশে ভারতীয় মিশনগুলি ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রেখেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪.০২ লক্ষ যাত্রী দেশে ফিরেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, ওমান ও কাতার থেকে নিয়মিত উড়ান চলছে। পাশাপাশি বিকল্প রুটের মাধ্যমেও কুয়েত, বাহরিন, ইরান ও ইজরায়েল থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

Leave a Reply