বিশালগড়, ২০ মার্চ : ঈদের আনন্দের প্রাক্কালে হঠাৎই শোকের কালো ছায়া নেমে এল বিশালগড়ে। যখন ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি, নতুন পোশাক আর হাসির রোল, ঠিক সেই সময়ই এক পরিবারের জীবনে নেমে এল গভীর অন্ধকার। থেমে গেল স্বপ্নভরা এক জীবনের পথচলা।
ছত্তিশগড়ে দেশের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বিশালগড়ের উত্তর রাউৎখলা এলাকার বাসিন্দা বিএসএফ জওয়ান ওয়াশিম মিয়ার অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। জানা গেছে, ডিউটিরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী ছুটে যান সেখানে। পরিবারের সদস্যদের আশা ছিল চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে আবারও ফিরে আসবেন ঘরে।
কিন্তু সমস্ত আশা ভেঙে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওয়াশিম মিয়া।
জানা যায়, বক্সনগরের পুটিয়া তাঁর আদি নিবাস হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশালগড়েই নিজের সংসার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। স্ত্রী একজন সর্বশিক্ষা অভিযানের শিক্ষিকা, বর্তমানে জম্পুইজলা স্কুলে কর্মরত। তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন ওয়াশিম মিয়া।
তাঁর অকাল মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। যে মানুষটি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা এবং সন্তানদের স্বপ্নের নায়ক, তাঁর চলে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
শনিবার তাঁর মরদেহ রাজ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার ও এলাকাবাসী।
এদিকে ঈদের উৎসব সামনে থাকলেও শোকের ছায়ায় ম্লান হয়ে গেছে আনন্দের রং। এলাকার মানুষদের মতে, দেশের জন্য কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এক সাহসী সন্তানকে হারাল বিশালগড়। তাঁর স্মৃতিতেই এবারের ঈদের আনন্দ যেন ফিকে হয়ে গেছে গোটা এলাকায়।

