মিউল অ্যাকাউন্ট চক্র ভাঙল পঞ্জাব পুলিশ, গ্রেপ্তার ৩

চণ্ডীগড়, ২০ মার্চ: সাইবার প্রতারণার টাকার লেনদেন, স্তরায়ণ এবং নিষ্পত্তির জন্য ভুয়ো বা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ খুলে সরবরাহকারী একটি চক্রের পর্দাফাঁস করল পঞ্জাব পুলিশের স্টেট সাইবার ক্রাইম ডিভিশন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব।

ধৃতদের নাম গুরজিত সিং, রমন রাই এবং সুখদেব সিং। এরা সকলেই ফাজিলকা জেলার জলালাবাদের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, মোহালির একটি ভাড়া করা ঘর থেকে ‘ব্রাদার ট্রেডার্স’ নামে অফিস চালিয়ে তারা সাইবার প্রতারকদের জন্য চলতি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে দিত।

ডিজিপি জানান, ধৃতদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ২৩টি এটিএম কার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিম কার্ড, জাল ব্যাঙ্ক ও কেওয়াইসি নথি, ১৪টি চেকবই, ৬টি স্ট্যাম্প এবং ৫,১০০ ইউএসডিটি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গত দু’বছর ধরে এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল ধৃতরা। মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সরবরাহ করে তারা প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা কমিশন উপার্জন করেছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, জাল ও বিকৃত নথি ব্যবহার করে এই অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হত। সন্দেহ এড়াতে মোহালিতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে ভুয়ো ব্যবসায়িক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। প্রয়োজনে সাইনবোর্ড বদলানো হত এবং আয়ুর্বেদিক পণ্য রেখে আসল ব্যবসার আবহ তৈরি করা হত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযান সম্পর্কে সাইবার ক্রাইম শাখার স্পেশাল ডিজিপি ভি. নীরজা বলেন, সাইবার অপরাধ রুখতে ‘ডোমেস্টিক হটস্পট’-এর বিরুদ্ধে চলা অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্তদের টেলিগ্রামের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তারা ওই ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সরবরাহ করত এবং বিনিময়ে ইউএসডিটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লাভ পেত।

আইফোরসি-র ‘সমন্বয়’ পোর্টালে আন্তঃরাজ্য সংযোগ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই মিউল অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে অন্তত ২৪ জন সাইবার প্রতারণার শিকারের যোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ২৬.৬৫ লক্ষ টাকা লিয়েন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এটিএম কার্ডগুলির সূত্র ধরে আরও প্রতারিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং গোটা চক্রের বিস্তার সম্পর্কে তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply