বিধানসভায় শিক্ষক শূন্যপদ নিয়ে তুমুল বিতর্ক, মন্ত্রীকে চাপে ফেললেন সুদীপ রায় বর্মন

আগরতলা, ২০ মার্চ: ত্রিপুরা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক শূন্যপদ ও গেস্ট লেকচারার নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আজ উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মনকে একাধিক প্রশ্নে চাপে ফেলেন।

বিষয়টি উত্থাপন করে সুদীপ রায় বর্মন জানান, সরকার যেখানে ৩০৬টি শূন্যপদের কথা স্বীকার করেছে, সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে বর্তমানে ৭৩২ জন গেস্ট বা ভিজিটিং লেকচারার নিযুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (টিপিএসসি)-এর মাধ্যমে ২০০টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, পাশাপাশি আরও ২০১টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে। যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪০১। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ৯৫টি পদ সৃষ্টির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিয়োগের মানদণ্ড নিয়েও অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক। ইউজিসি-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী লেকচারারদের নেট, স্লেট বা পিএইচডি ডিগ্রি থাকা আবশ্যক হলেও বাস্তবে অনেক গেস্ট লেকচারার কেবল স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পিজি ডিগ্রিধারীদের সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা শিথিল করা হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এর জবাবে মন্ত্রী কিশোর বর্মন তথ্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা হস্তক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নেট, স্লেট ও পিএইচডি যোগ্য প্রার্থীর অভাব থাকায় গেস্ট ও ভিজিটিং লেকচারার নিয়োগের প্রথা চালু রয়েছে।

এতে আপত্তি জানিয়ে সুদীপ রায় বর্মন দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ১,৭০০ জন যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, এর আগে কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় বাজেট অধিবেশনের পঞ্চম দিনে কলেজগুলিতে শূন্যপদের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। জবাবে মন্ত্রী পুনরায় জানান, ৩০৬টি পদ শূন্য রয়েছে এবং সেগুলি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান বিরোধীরা।

এদিকে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী আলোচনায় যোগ দিয়ে জানান, ২০১৯ সালের ৩০ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ১,৩৯০ এবং ইউজিসি-এর নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩০।

মন্ত্রী কিশোর বর্মন বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানান, ৩০৬টি শূন্যপদের মধ্যে ২৩৪টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজে, ২৬টি পেশাগত কলেজে এবং ৪৬টি টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। সাধারণ ডিগ্রি কলেজে মোট ৬৮৩টি পদের মধ্যে ৪৪৯টি পূরণ হয়েছে এবং ২০১টি সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য টিপিএসসি-কে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। টেকনিক্যাল কলেজগুলিতে ১০৪টি পদের মধ্যে ৫৮টি পূরণ এবং ৪৬টি শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি আরও ২০০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে এই সব পদক্ষেপের পরও রাজ্যের কলেজগুলিতে ৭৩২ জন গেস্ট লেকচারারের উপস্থিতিই বিরোধীদের সমালোচনার কেন্দ্রে থেকে যায়।

Leave a Reply