মুকেশ মালহোত্রার জয় বাতিলের হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, কংগ্রেসের দাবি ‘গণতন্ত্রের জয়’

নয়াদিল্লি/ভোপাল, ১৯ মার্চ: মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের রায়ে কংগ্রেস বিধায়ক মুকেশ মালহোত্রার নির্বাচন বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিধায়ক পদে বহাল থাকবেন। এই অন্তর্বর্তী স্বস্তিকে কংগ্রেস ‘সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয়’ বলে দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানি হয়, যেখানে ১০ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। ওই রায়ে শ্যোপুর জেলার বিজয়পুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে মুকেশ মালহোত্রার জয়কে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশের পর মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিতে শুরু করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি শীর্ষ আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই রায় বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে এনে দিয়েছে।

পাটোয়ারির বক্তব্য, “এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত আবারও ব্যর্থ হল। যারা বারবার গণতন্ত্র ও সংবিধানকে অপমান করে, তারা এই আইনি শিক্ষাটা মনে রাখুক। এটা সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং সংবিধানের জয়।”

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা উমঙ্গ সিঙ্ঘারও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির মামলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের দেওয়া গণরায়ের মর্যাদা।

সিঙ্ঘার বলেন, বিজয়পুরের মানুষ মুকেশ মালহোত্রাকে তাঁদের বিধায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে ভরা বিজেপি সরকার এবং ‘খাঁচাবন্দি টিয়াপাখি’র মতো আচরণ করা নির্বাচন কমিশন জনরায় উল্টে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করেছে।

তিনি সুপ্রিম কোর্টে মুকেশ মালহোত্রার পক্ষে সওয়াল করার জন্য কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী বিবেক তাঙ্খাকেও ধন্যবাদ জানান। তাঁর মন্তব্য, “সত্যকে বিপাকে ফেলা যায়, কিন্তু কখনও পরাজিত করা যায় না।”

সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ২৩ জুলাই।

এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট রায়ে বলেছিল, মুকেশ মালহোত্রা তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁর নির্বাচন বাতিল করে বিজেপি নেতা রামনিবাস রাওয়াতকে বৈধভাবে নির্বাচিত বিধায়ক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিজয়পুর উপনির্বাচনে দুই দলবদলু নেতার মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছিল। সেখানে মুকেশ মালহোত্রা বিজেপির রামনিবাস রাওয়াতকে ৭ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন।

Leave a Reply