নয়াদিল্লি, ১৮ মার্চ: নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করে আগামী কয়েক মাসে অবসর নিতে চলা রাজ্যসভার সদস্যদের বুধবার বিদায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উচ্চকক্ষে তাঁদের সংসদীয় কাজকর্ম এবং জনজীবনে অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় জীবনে তাঁদের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
রাজ্যসভায় এ দিনের অধিবেশন শুরুতেই এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে অবসর নিতে চলা সদস্যদের বিদায় জানাতে একত্র হন সব দলের সাংসদরা। আগামী কয়েক মাসে ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭ জন সদস্যের রাজ্যসভা থেকে অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে।
সদনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কক্ষে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, অনেক তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতাও হয়। কিন্তু বিদায়ের মতো মুহূর্তে সহকর্মীদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাবোধ সমানভাবে সামনে আসে। তিনি বলেন, যাঁরা আজ বিদায় নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ আবার এই কক্ষে ফিরবেন, কেউ বা অন্যভাবে মানুষের সেবা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে কয়েকজন প্রবীণ নেতার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি এইচ.ডি. দেবেগৌড়া, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শরদ পওয়ারের নাম তুলে ধরে বলেন, তাঁরা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। নতুন সদস্যদের তাঁদের কাছ থেকে শেখার আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, কীভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে সংসদে আসতে হয়, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে হয় এবং সমাজ যে দায়িত্ব দেয়, তার প্রতি সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত থাকতে হয়—এই বিষয়গুলি প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে শেখার আছে।
তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় পরিসরে সক্রিয় থাকা ছোট বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই তাঁদের অবদানকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন।
রাজ্যসভার উপ-সভাপতি হরিবংশ নারায়ণ সিংহের ভূমিকাও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রধান ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালের প্রসঙ্গ টেনে খানিক হালকা মেজাজে বলেন, আঠাওয়ালে সর্বদা প্রাণবন্ত থাকেন। তিনি রাজ্যসভা ছাড়লেও তাঁর রসবোধ ও কৌতুক পরিবেশন বন্ধ হবে না বলেই সবার বিশ্বাস।
সংসদীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার কথাও এ দিন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রতি দু’বছর অন্তর রাজ্যসভায় বড় বিদায়পর্ব হয়, কিন্তু নতুন সদস্যরা এসে দ্রুতই অভিজ্ঞ সহকর্মীদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পান। এর ফলে এই কক্ষের ঐতিহ্য একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে, যা সংসদীয় ব্যবস্থার বড় শক্তি।
মোদী আরও বলেন, রাজ্যসভায় ছ’বছর থাকার সুযোগ শুধু নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে অবদান রাখার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি ব্যক্তিজীবনের পক্ষেও এক অমূল্য অভিজ্ঞতা। সদস্যরা তাঁদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, উপলব্ধি এবং সক্ষমতা নিয়ে এখানে আসেন, আর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বহুগুণ সমৃদ্ধ হয়।
তিনি বলেন, রাজ্যসভা ছাড়ার পরও জাতীয় জীবনে তাঁদের অবদান অব্যাহত থাকে। তাঁরা ব্যবস্থার মধ্যে থাকুন বা না থাকুন, তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং ভূমিকা দেশ গঠনের কাজে কাজে লাগে। সব অবসরপ্রাপ্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের অবদানের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে শাসক এনডিএ উচ্চকক্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বিহারের পাঁচটি আসনেই জয় পেয়েছে জোটটি। ওডিশার চারটির মধ্যে তিনটি আসনও তাদের দখলে গেছে।
মোট ৩৭টি শূন্যপদের মধ্যে বিহার, ওডিশা এবং হরিয়ানার ১১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। বাকি সদস্যরা এর আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

