তিরুবনন্তপুরম, ১৮ মার্চ: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজ্য ইউনিটে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর মতোই এবার বিজেপির অন্দরেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ সামনে আসতে শুরু করেছে।
আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে ভোটগ্রহণ। তার আগেই তিন প্রধান রাজনৈতিক শিবিরেই অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কেরলে বিজেপির ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় বর্তমানে দলটির কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। ২০১৬ সালে ঐতিহাসিকভাবে জেতা তিরুবনন্তপুরম জেলার নেমম আসনও পরবর্তীতে হাতছাড়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে পুনরায় জমি শক্ত করার চেষ্টা চালালেও, সাম্প্রতিক অসন্তোষ সেই প্রচেষ্টায় নতুন বাধা তৈরি করেছে।
দলের প্রথম প্রার্থী তালিকায় প্রবীণ নেতা কুম্মানম রাজশেখরন এবং পি.এস. শ্রীধরন পিল্লাইয়ের নাম না থাকায় ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। দু’জনেই প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং প্রাক্তন রাজ্যপাল। তাঁদের বাদ দেওয়ায় তৃণমূল স্তরের বহু কর্মী প্রকাশ্যে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা প্রবীণ নেতাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
অসন্তোষ শুধু নেতৃত্বের স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, একাধিক জেলায় তা রাস্তায় নেমে এসেছে। বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে জেলা সভাপতি সন্দীপ বচস্পতিকে চেঙ্গান্নুর থেকে সরিয়ে হারিপাড আসনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে। স্থানীয় কর্মীদের একাংশের দাবি, চেঙ্গান্নুরে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, ফলে এই বদল দলের সম্ভাবনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এছাড়া, কডুথুরুতি আসনে রেজি লুকোসকে বাদ দিয়ে আসনটি বিডিজেএস-কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, নানানয়া সম্প্রদায়ের একাংশ এতে অসন্তুষ্ট বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে খ্রিস্টান ভোটব্যাঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরএসএস ঘনিষ্ঠ মহলেও অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। অরনমুলা এবং রান্নির মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বিবেচনা না করায় প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে, শ্রীধরন পিল্লাই পরবর্তী প্রার্থী তালিকায় স্থান পাবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
রাজ্য বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাজীব চন্দ্রশেখরের ভূমিকা নিয়েও দলের অন্দরে সমালোচনা বাড়ছে। একাংশের অভিযোগ, কেরলের রাজনৈতিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
যদিও রাজ্য নেতৃত্ব পরিস্থিতিকে গুরুত্বহীন দেখানোর চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, মতভেদ দ্রুত মিটে যাবে এবং খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের আগে চাপ বাড়ছে। প্রবীণ নেতাদের যথাযথভাবে সমন্বয় করা না গেলে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে, যা নির্বাচনে বিজেপির সম্ভাবনাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

