গুয়াহাটি, ১৮ মার্চ: অসমে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৮৬.৫ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার তিনি জানান, মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ রুখতে তাঁর সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এই ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান জারি থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখেছেন, “আমার মা ও বোনেদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। সেই কারণেই আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু এমন দিন না আসা পর্যন্ত আমরা থামব না, যেদিন এই ধরনের অপরাধ শূন্যে নেমে আসবে।”
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ৮৬.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাঁর কথায়, কঠোর আইন প্রয়োগ, নজরদারি ব্যবস্থার উন্নতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়াকড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে এবং মহিলাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অসম পুলিশ মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, টহলদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধের ঘটনা জানাতে উৎসাহ দিতে সচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হয়েছে।
এছাড়াও, মহিলাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করা, বিশেষ পুলিশকর্মী মোতায়েন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদিও অপরাধের পরিসংখ্যান কমার প্রবণতাকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তবু তিনি বলেন, গোটা রাজ্যে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতেই সরকার বদ্ধপরিকর। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে উন্নত আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সাফল্যের বার্তা তুলে ধরার প্রচেষ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

