আদালতের নির্দেশে দখলমুক্ত রাবার বাগান, পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

আগরতলা, ১৬ মার্চ: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে দখলমুক্ত হলো একটি টিলাভূমির রাবার বাগান। সোমবার দুপুরে আদালতের আধিকারিকরা এবং আমতলী থানার পুলিশের উপস্থিতিতে সূর্যমনিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায়ের দখল থেকে ৬৪ শতক জমি মুক্ত করে প্রকৃত মালিকের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অভিযোগ, সূর্যমনিনগর বিধানসভার চৌমুহনী বাজার রেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধরের নামে রেজিস্টারকৃত একটি টিলাভূমিতে তাঁর ছেলে ভুলু সূত্রধর রাবার বাগান করেছিলেন। কিন্তু সেই জমির ওপর নজর পড়ে সূর্যমনিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান উত্তম রায়ের। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রভাব ও বাহুবল ব্যবহার করে তিনি ওই জমি ও রাবার বাগান দখল করে নেন।

এই ঘটনার পর ভুলু সূত্রধর আদালতের দ্বারস্থ হন এবং মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন শুনানি চলার পর আদালত সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে রায় দেয় যে জমির প্রকৃত মালিক স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধর। সেই অনুযায়ী আদালত নির্দেশ দেয় দখলকৃত জমি প্রধান উত্তম রায়কে ছেড়ে দিয়ে ভুলু সূত্রধরের হাতে হস্তান্তর করতে।

আদালতের নির্দেশে প্রায় দুই মাস আগে আধিকারিকরা জমি দখলমুক্ত করতে ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ, তখন প্রধান উত্তম রায় তাঁর ভাই ও সমর্থকদের নিয়ে আদালতের কাজে বাধা দেন। ফলে আদালতের আধিকারিকরা সেদিন নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

পরে বিষয়টি পুনরায় আদালতের নজরে আনা হলে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার আদালতের আধিকারিকরা আমতলী থানার পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে জমিটি দখলমুক্ত করেন। এদিন আদালতের নির্দেশপত্র পাঠ করে শোনানো হয়, লাল পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং ঢোল পিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৪ শতক জমি ভুলু সূত্রধরের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকায় পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায়কে সামনে আসতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উত্তম রায় আরও বহু মানুষের জমি জোর করে দখল করে রেখেছেন। ইতিমধ্যেই সেইসব জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে যদি জনপ্রতিনিধিরাই জমি দখলের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। তাই দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply