ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে এলপিজি ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা

কলকাতা, ১৩ মার্চ : ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের সমস্যা বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠতেই রাজ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করেছে, মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্য সরকারই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার লোক ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “এলপিজি সিলিন্ডারের কোনও প্রকৃত ঘাটতি নেই।”

আন্তর্জাতিক বাজারে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

কলকাতার বাসিন্দা সুমন বাগ জানান, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রভাব তো আছেই, তার পাশাপাশি সার্ভার সমস্যার মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ও রয়েছে। আবার অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে আর্থিক লাভের চেষ্টা করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। শেষ ধাপের সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যাও রয়েছে।”

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে এলপিজির কোনও প্রকৃত সংকট নেই এবং মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রচার ও পাল্টা অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এলপিজি ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারের বড় হাতিয়ার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।

আগামী সোমবার, ১৬ মার্চ কলকাতায় তিনি একটি প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কলকাতার এসপ্লানেডে আন্দোলনে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সেই অনির্দিষ্টকালের ধর্না তিনি মঙ্গলবার তুলে নেন। সুপ্রিম কোর্ট-এর পর্যবেক্ষণের পর আইনি পথে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জি-এর অনুরোধের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সরকার প্রথমে ২১ দিন পরে এলপিজি বুকিং করার নিয়ম ঘোষণা করে আতঙ্ক তৈরি করেছে, যা পরে ২৫ দিনে বাড়ানো হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী গ্যাস ডিলার ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন, যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং কালোবাজারি রোখা সম্ভব হয়।

এদিকে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তোরাঁ, মিড-ডে মিল সরবরাহকারী স্কুল, হাসপাতাল ও হস্টেলের ক্যান্টিনগুলিতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে কলকাতার ব্যস্ত সদর স্ট্রিটের একটি খাবারের দোকানের মালিক জানান, তাঁর কাছে এখনও দুটি অব্যবহৃত বাণিজ্যিক সিলিন্ডার রয়েছে এবং একটি খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে, যা সংকটের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এলপিজি সরবরাহের বিষয়টি এখন প্রশাসনিক অগ্রাধিকার হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন ঘোষণার আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করছে।

Leave a Reply