কৈলাসহরে পুলিশ হেফাজতে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা

কৈলাসহর, ১৩ মার্চ : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমায় পুলিশ হেফাজতে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে গ্রেফতারের পর পুলিশি মারধরের ফলেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহরের দেওরাছড়া এলাকায়।

জানা গেছে, কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অধীনস্থ দেওরাছড়া এডিসি ভিলেজের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির মিয়া (৬৫) পেশায় দিনমজুর ছিলেন। সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রায় দুইটা নাগাদ কৈলাসহর থানার পুলিশ মনির মিয়াকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গ্রেফতারের সময় পুলিশের কয়েকজন কর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁরা মনির মিয়ার সঙ্গে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। পরিবারের দাবি, ঘুম থেকে তুলে মনির মিয়াকে পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে বের করে পুলিশ গাড়িতে তোলা হয় এবং সেই সময় গাড়ির মধ্যেই তাঁকে মারধর করা হয়।

পরিবারের আরও অভিযোগ, গ্রেফতারের কিছু সময় পর রাত প্রায় তিনটা নাগাদ পুলিশ মনির মিয়ার বাড়িতে ফোন করে জানায় যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে ভোরবেলায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছালে জানতে পারেন মনির মিয়া মারা গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ মনির মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

মনির মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঊনকোটি জেলা হাসপাতাল চত্বরে দেওরাছড়া এলাকার বহু মানুষ জড়ো হন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী হাসপাতালে মোতায়েন করা হয়।

এই বিষয়ে কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।

অন্যদিকে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে কৈলাসহর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, পুলিশের অত্যাচার ও মারধরের ফলেই মনির মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের পর মনির মিয়ার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply